এক পা পুরো রক্তাক্ত

এক পা পুরো রক্তাক্ত, চেহারা ও হাতের বিভিন্ন স্থানে আঘাত। অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে ১০-১২ বছরের এক মেয়ে। সে চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলছিল, আমাকে ছেড়ে যেও না। কিন্তু চিকিৎসকদের কিছুই করার ছিল না। কারণ, তাঁর চেয়েও গুরুতর আঘাত নিয়ে হাসপাতালে আনা হচ্ছে শত শত শিশুসহ নানা বয়সী মানুষকে। হাসপাতালে আনার পর অনেকে মারা যাচ্ছেন। সাদা কাপড়ে মুড়িয়ে অসংখ্য লাশ ফেলে রাখা হয়েছে ট্রলিতে। এমন বিবর্ণ দৃশ্য এখন ফিলিস্তিনের গাজার আল-শিফা হাসপাতালের। 

অন্যদিকে, গাজা শহরের আল-নাসেরে জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুলকে আশ্রয়কেন্দ্র বানানো হয়েছে। সেখানে অবস্থান নেওয়া পরিবারের শিশুরাও চরম আতঙ্কিত। যখনই কোনো বিমানের গর্জন শুনতে পায়, তখনই অবাক চোখে আকাশের দিকে তাকায় তারা। তাদের আশঙ্কা, এই বুঝি হামলা হলো। তাদের জিজ্ঞাসা করলে উত্তর পাওয়া যায়, কোন ধরনের বিমান মাথার ওপর দিয়ে উড়ছে, অথবা কেমন বোমা সবেমাত্র বিস্ফোরিত হয়েছে। যুদ্ধের এসব বিধ্বংসী শব্দের সঙ্গে তারা পরিচিত। গত ৭ অক্টোবর বিকেলেই তাদের খেলাধুলা ও আনন্দ শেষ হয়ে যায়। 

ফিলিস্তিনি শিশুদের অ্যাডভোকেসি গ্রুপের মতে, ইসরাইল গত সপ্তাহে হামলায় ৭২৪ শিশুকে হত্যা করেছে। প্রাপ্তবয়স্কদের মতো এই শিশুরাও বুঝতে পেরেছিল যে ইসরায়েলি বোমা হামলা তাদের শৈশব ও আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। গাজার শিশুদের বয়স এখন গণনা করা হচ্ছে এবং তারা কতগুলি ইসরায়েলি হামলা প্রত্যক্ষ করেছে।

গাজা শহরের চার সন্তানের মা সামাহ জাবরের বড় ছেলে কুসায়েরের বয়স ১৩ বছর। তাকে নিয়ে তিনি চিন্তিত। কারণ, তাঁর ছেলে কোনো শব্দই সহ্য করতে পারছে না। এক পা পুরো রক্তাক্ত

তাকে বোঝাতে চান, এই যুদ্ধ শেষ হবে। স্বাভাবিক রাখতে যতবার সম্ভব কুসেকে জড়িয়ে ধরেন। জাবর বলেন, মিসাইলের শব্দ ভয়ঙ্কর। আমাদের ঘর খুব জোরে কেঁপে ওঠে।

তিনি বাচ্চাদের শিখিয়েছিলেন কিভাবে রকেট থেকে আলো চিনতে হয়। উচ্চ শব্দ দ্বারা সৃষ্ট শ্রবণ ক্ষতি প্রতিরোধ করতে.

গাজায় ইসরায়েলি দখলদারিত্ব হবে বড় ভুল

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments