ইডেনের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব

ইডেনের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব নাকি শহরের উত্তপ্ত অংশগ্রহণ আর গ্যালারির মাদকতা। শুনে আসা এ কথার সঙ্গে গতকাল বিকেলে ইডেনের সামনের দৃশ্য কিছুতেই মেলানো যাচ্ছিল না। স্টেডিয়ামের সামনে কিছু লোকের যে হাঁটাচলা, তা ওই অফিসফেরত অপেক্ষমাণ বাসের যাত্রী। এর চেয়ে বরং বেশি ভিড় লেগে থাকে পাশের গঙ্গার ঘাটে বাদামের খোসা ছাড়ানোতে! পড়শি বাংলাদেশ নামছে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে। 

সাত বছর পর পাকিস্তান দল এসেছে শহরে। কোথায় একটা গমগমে ব্যাপার থাকবে, তা না; বরং ইডেন অপেক্ষা করছে ৫ নভেম্বর ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকাকে আতিথেয়তা দিতে। আসলে আজকে দুটি ‘দুখী’ দলের সুখ খোঁজার ম্যাচে খুব একটা কৌতূহল নেই কলকাতার।

এক দল মাত্রই নেদারল্যান্ডসের কাছে হেরে হতবিহ্বল। ঢাকা থেকে বলে আসা ‘সেমিফাইনালে যাব’ ড্রেসিংরুমের মুখগুলোতে প্রতিকারবিহীন অসহায়ত্ব। দুর্বলচিত্তের মতো তারা প্রতি ম্যাচের আগেই ভাবে, আজ কিছু হতে চলেছে এবং প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছে। মিডিয়া দেখলেই এখন তারা মুখ লুকাচ্ছেন। সমর্থকরা চিনে ফেলার ভয়ে গাড়ির কাচ নামিয়ে দিচ্ছেন। বাংলাদেশের চেয়ে এই বিশ্বকাপে কম দুখী না পাকিস্তানও। সেই যে ভারতের কাছে হার দিয়ে ব্যর্থতার শুরু। তার পর অস্ট্রেলিয়া, আফগানিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা। ইডেনের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব

 একেকটি হার পাকিস্তান ড্রেসিংরুমের অশান্তিও সামনে নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ দলে যেমন সাকিব বনাম তামিমের শীতল সম্পর্ক তারাই স্বীকৃতি দিয়েছেন। পাকিস্তান দলে তেমন বাবর আজম আর শাহিন আফ্রিদির লড়াইও এখন ওপেন সিক্রেট। বিশ্বকাপের মাঝেই বকেয়া বেতন চেয়ে পিসিবিপ্রধান জাকা আশরাফকে নাকি ফোন দিয়েছিলেন বাবর। তিনি সেই ফোন ধরেননি। লাহোর থেকে কলকাতায় আসা এক পাকিস্তানি সাংবাদিক ইডেনে দাঁড়িয়ে কাল ক্যামেরার সামনে সেই অশান্তির কথাই বলছিলেন।

ব্যালন ডি অর জিতলেন বনমাতি

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments