চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা হরতাল এবং অবরোধের মধ্যে নিত্যপণ্যের বাজার স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সাধারণ নাগরিক সমাজ ও বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন নামক দুইটি সংগঠন।
সোমবার (৩০ অক্টোবর) যৌথ বিবৃতিতে সংগঠন দুটির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা যখন অসহনীয় হয়ে উঠেছে, ঠিক এর মধ্যে নতুন করে যুক্ত হয়েছে হরতাল অবরোধের মতো রাজনৈতিক অস্থিরতার কর্মসূচি। হরতালের আগের দিন অর্থাৎ ২৭ অক্টোবর যেখানে বাজারে দেশে পেঁয়াজের মূল্য ছিল ৯০ থেকে ১০০ টাকা সেটি বেড়ে হয়েছে দুদিনের মাথায় ১৩০ টাকা।
তিনি আরও বলেন, ভারতীয় পেঁয়াজ যেখানে ছিল ৬০ টাকা সেটি বেড়ে এখন ৮০ থেকে ৯০ টাকা। গোল আলু যেখানে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা ছিল সেটি আজকের বাজারে ৬৫ থেকে ৭০ টাকা প্রতি কেজি। প্রতিটি তরকারির দাম ১০০ টাকার ওপরে। এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার থেকে তিন দিনের জন্য রাজনৈতিক অবরোধ কর্মসূচি দিয়েছে বিরোধী দলগুলো। চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা
এই সুযোগে অসৎ মজুতদার, কালোবাজারি ও সিন্ডিকেটকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। বাজারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে যেতে পারে বাজার। এ অবস্থায় বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার ভোক্তা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন, ট্যারিফ কমিশন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, সিটি কর্পোরেশন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে যৌথ টাস্ক গঠন করে ২৪ ঘণ্টা বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাহলে বাজার স্বাভাবিক পর্যায়ে রাখা সম্ভব না হলে জনগণের দুর্ভোগ আরও চরমপর্যায়ে পৌঁছে যাবে এতে কোনো সন্দেহ নেই।
মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, মানুষের এই হরতাল অবরোধের মধ্যে নিরাপত্তার খাতিরে ঘরে বা অফিসে বসে দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দরকার একটি নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ও ইন্টারনেট সেবা। সেই সঙ্গে ই-কমার্স ও প্রযুক্তির সেবাকে হরতাল অবরোধের আওতার বাইরে রাখা। হরতাল অবরোধ আহ্বানকারী রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচি ঘোষণার সময় টেলিযোগাযোগ, ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি সেবা-সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে হরতাল অবরোধের আওতার বাইরে রাখার জন্য আমরা আহ্বান জানাচ্ছি।
