অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এই ভয়ঙ্কর হামলায় পঞ্চাশেরও বেশি মানুষ মারা যায়। আহত হয়েছেন দেড় শতাধিক ফিলিস্তিনি।
অবশ্য ইসরায়েলি এই হামলায় নিহতের মোট সংখ্যা এখনও জানা যায়নি। এতে করে শরণার্থী শিবিরে হওয়া এই হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার উত্তরাঞ্চলীয় জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অর্ধশতাধিক লোক নিহত হয়েছেন বলে অবরুদ্ধ এই অঞ্চলের একজন মেডিকেল কর্মকর্তা এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
গাজার ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালের পরিচালক ডা. আতেফ আল-কাহলুত আল জাজিরাকে বলেছেন, ইসরায়েলি এই হামলায় ৫০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, হাসপাতাল এখনও নিহতের মোট সংখ্যা জানাতে পারেনি কারণ এটি এখনও নিহতদের সংখ্যা গণনা করছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে ৫০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘উত্তর (গাজা) উপত্যকার জাবালিয়া শিবিরের একটি বিশাল এলাকাকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলি হামলায় ৫০ জনেরও বেশি নিহত এবং প্রায় ১৫০ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও বহু মানুষ আটকে আছেন।
এদিকে জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইসরায়েলের এক সামরিক কর্মকর্তা। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রিচার্ড হেচট সিএনএনকে বলেছেন, ‘সেই এলাকায় হামাসের একজন সিনিয়র কমান্ডার ছিলেন। আমরা এটি অনুসন্ধান করছি এবং সেখানে কী ঘটেছে তা জানার সাথে সাথে আমরা আরও তথ্য নিয়ে হাজির হবো। অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায়
জাবালিয়ায় হামলার পর ধারণ করা বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে শরণার্থী শিবিরের বাসিন্দাদের হামলার জেরে সৃষ্ট বড় বড় গর্তের চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় এবং উদ্ধারকারীদের ধসে পড়া ভবনের নিচে বেঁচে থাকা লোকদের খুঁজে বের করার জন্য দৌড়ঝাঁপ করতেও দেখা যায়।
জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরের ৪১ বছর বয়সী বাসিন্দা রাগেব আকল বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ধ্বংসস্তুপ দেখেছি… ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা বাড়িঘর ও শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গও দেখেছি এবং এই হামলায় বিপুল সংখ্যক মানুষ শহীদ ও আহত হয়েছেন।
