বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা দ্বিতীয় দফা অবরোধের সময় বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও পিকেটিং করেছে।
এই উত্তাল তরঙ্গ থামানো যাবে না : ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম
জনগণের ভোট-ভাত এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সর্বাত্মক অবরোধ চলছে। তাই পুলিশ দিয়ে, গ্রেফতার করে জনতার এই উত্তাল তরঙ্গ থামানো যাবে না বরং আওয়ামী লীগের পতন ঘটিয়েই জনতা ঘরে ফিরবে বলে সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম।
তিনি আজ রাজধানীর উত্তরার কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি সরকারের পদত্যাগ, কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল এবং আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানসহ গ্রেফতারকৃত সকল নেতাকর্মীর মুক্তির দাবিতে এবং বিগত তিন দিনের অবরোধ চলাকালে সরকারের হত্যা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে ৪৮ ঘণ্টার টানা অবরোধের সমর্থনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরে উত্তরা থানা আয়োজিত এক বিক্ষোভ-পরবর্তী সমাবেশে এসব কথা বলেন। বিক্ষোভ মিছিলটি গাউসুল আজম থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আজমপুরে এসে পথ সভার মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে উপস্থিত ঢাকা মহানগরী উত্তরের মজলিসে শূরা সদস্য আবু হাসনাইন, জামায়াত নেতা আব্দুল কাদের, মাহবুবুল আলম ও আব্দুল্লাহ রেজা এবং ছাত্রনেতা সালাহ উদ্দীন প্রমুখ।
ড. রেজাউল করিম বলেন, গণবিরোধী সরকার বশংবদ নির্বাচন কমিশন দিয়ে একতরফা নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। সে ষড়যন্ত্রকে বাস্তবরূপ দেওয়ার জন্যই সারাদেশে গায়েবী মামলা ও গণগ্রেফতার চালানো হচ্ছে। কিন্তু জনগণ সরকারের এই চক্রান্ত মেনে নেবে না বরং একতরফা তফসিল ঘোষণা করা হলে জনগণ রাজপথে দুর্বার ও অপ্রতিরোধ্য আন্দোলন গড়ে তুলবে। তিনি সরকারকে জনমতের প্রতি প্রদ্ধা প্রদর্শন করে অবিলম্বে পদত্যাগ ও কেয়ারটেকার সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহবান জানান। অন্যথায় সরকারকে লজ্জাজনকভাবে ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে হবে। বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীর
তিনি বলেন, সরকার আগামী নির্বাচনে ভোটচুরি নির্বিঘ্ন ও প্রতিপক্ষমুক্ত করতেই আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান সহ জাতীয় নেতাদের সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে করারুদ্ধ করে রেখে গোটা দেশকেই অঘোষিত কারাগারে পরিণত করেছে। আওয়ামী লীগের অবৈধ ক্ষমতালিপ্সা ও লাগামহীন লুটপাটের কারণেই জাতীয় অর্থনীতিতে বিপর্যয় নেমে এসেছে। আমদানী ব্যয় আর রপ্তানী আয়ে কোন ভারসাম্য নেই। উপর্যুপরি দেশে তীব্র ডলার সঙ্কট চলছে। এমতাবস্থায় দেশ ও জাতিকে এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করতে হলে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই। তিনি জনপ্রতিনিধিত্বশীল সরকার প্রতিষ্ঠায় সকলে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান এবং অবিলম্বে আমিরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানসহ জাতীয় নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।
মিরপুরে জামায়াতের অবরোধ
অবৈধ সরকারের পদত্যাগ, কেয়ারটেকার সরকার প্রতিষ্ঠা, আমীরে জামায়াতসহ নেতা-কর্মীদের মুক্তির দাবিতে কেন্দ্র ঘোষিত ৫ ও ৬ নভেম্বর সারাদেশে সড়কপথ, নৌপথ ও রেলপথে অবরোধের সমর্থনে রাজধানীর মিরপুরে অবরোধের সমর্থনে মিছিল, সড়ক অবরোধ করে ঢাকা মহানগরী উত্তর মিরপুর অঞ্চলের জামায়াতের কর্মীরা।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন মহানগরী মজলিশে শূরার সদস্যদের মধ্যে মোহাম্মদ আবু নকিব অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ, আব্দুর রাকিব, রিমন তমাল ও ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান, তানভীর প্রমুখ।
