নিয়মিত গাঁজা খেলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, হার্ট ফেলের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। প্রাথমিক দুটি গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের সায়েন্টিফিক সেশনে গবেষণা দুটি উপস্থাপন করা হবে।
প্রথম একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সমীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রায় দেড় লাখ মানুষ যারা নিয়মিত গাঁজা খেয়ে আসছেন, অথচ কোনো দিনই তাদের হার্টের রোগে আক্রান্ত হওয়ার কথা শোনা যায়নি। দীর্ঘ চার বছর ধরে তাদের গতিবিধির উপর নজর রাখেন গবেষকেরা। এই সময়কালের মধ্যে প্রায় ৩ হাজার জনই হার্ট অ্যাটাকের কবলে পড়েছেন।
গবেষণার প্রধান চিকিৎসক ইয়াকুবু বেনে-আলহাসান বলেন,নিয়মিত গাঁজা সেবন করলে করোনারি আর্টারি ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। হার্টে পর্যাপ্ত পরিমাণে রক্ত সরবরাহ করতে না পারলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের আশঙ্কা বেড়ে যেতে পারে। নিয়মিত গাঁজা খেলে
অন্য একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, শুধু হার্টের রোগ নয়, উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যার জন্যও দায়ী গাঁজা।
গবেষণার প্রধান চিকিৎসক অভিলাষ মণ্ডল বলেন, আমাদের এই গবেষণা কিন্তু সব ধূমপায়ীর জন্য নয়। হার্টের স্বাস্থ্যের উপর গাঁজার প্রভাব কেমন, সে বিষয়ে আলোকপাত করাই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল।
সিগারেটের মতো না হলেও মাঝেমধ্যে লুকিয়েচুরিয়ে গাঁজা খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। আবার অনেকেই গাঁজা সেবনকে একেবারে নেশার পর্যায়ে নিয়ে চলে গিয়েছেন। আমেরিকা-সহ বিভিন্ন দেশে ব্যথা কমানোর ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করা হয় গাঁজা। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, নিয়মিত গাঁজা খেলে অল্প বয়সে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, হার্ট ফেলের ঝুঁকি ৩৪ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে। ২০২৩ সালে ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত সায়েন্টিফিক সেশন-এ আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন-এর দু’টি ভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে এই তথ্য।
