চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি-২০২৫ এ খেলার আশা বাঁচিয়ে রাখল ইংল্যান্ড। নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে ১৬০ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দৌড়ে টিকে রইল ইংল্যান্ড। এই জয়ে তলানি থেকে সাত নম্বরে উঠে এলো ইংলিশরা।
৮ নভেম্বর ভারতের পুনের মহারাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে ৩৪০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ১৭৯ রানে গুটিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস।
টচে জিতে আগে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৩৩৯ রান করে ইংল্যান্ড। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মঈন আলি ও আদিল রশিদদের ঘূর্ণিতে ৩৭.২ ওভারে সবগুলো উইকেট হারিয়ে ১৭৯ রানে থেমেছে স্কট এডওয়ার্ডসের দল। ডাচদের হয়ে সর্বোচ্চ ৪১ রান করেন তেজা নিদামানুরু।
ম্যাচের কোনো অংশেই ঠিক সুবিধা করতে পারেনি নেদারল্যান্ডস। চতুর্থ ওভারে দলীয় ১২ রানে ক্রিস ওকসের শিকার হন ম্যাক্স ও’দাউদ। এর পরে ওভারেই ডেভিড উইলি বলে জশ বাটলার হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে শূণ্য রানে সাজঘরে ফেরেন দলের বড় ভরসা কলিন অ্যাকারম্যান। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি-২০২৫
সিব্র্যান্ড এঙ্গেলব্রেখটকে সাথে নিয়ে দলকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন ওয়েসলি বারেসি। কিন্তু দলীয় ৬৮ রানে রান আউটের ফাঁদে পড়েন তিনি। আউট হওয়ার আগে তার ব্যাটে আসে ৬২ বলে ৩৭ রান। আর ৩৩ রান করে ডেভিড উইলির দ্বিতীয় শিকার হন সিব্র্যান্ড এঙ্গেলব্রেখট।
এরপর ধরে খেলার চেষ্টা করেন স্কট এডওয়ার্ডস। দলীয় ১০৪ রানে বাস ডি লিডে (১০) ফিরে যাওয়ায় জুটি গড়েন তেজা নিদামানুরুর সাথে। দুজনের জুটি থেকে আসে ৫৯ রান। স্কোরবোর্ডে ৩৮ রান যোগ করে মঈন আলির বলে ডেভিড মালানের হাতে ক্যাচ তুলে দেন স্কট এডওয়ার্ডস। শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যান নিদামানুরু। অন্যপাশে যেন চলে আসা যাওয়ার দৌড়। নিদামানুরু অপরাজিত থাকেন ৪১ রানে।
ইংল্যান্ডের দুই স্পিনার রশিদ খান ও মঈন সমান তিনটি করে উইকেট নেন। দুই পেসার ডেভিড উইলি দুটি ও ওকস একটি উইকেট নেন।
ইংলিশদের হয়ে ইনিংস উদ্বোধনে নামেন দুই ওপেনার জনি বেয়ারস্টো ও ডেভিড মালান। শুরু থেকেই দ্রুতগতিতে রান তুলতে থাকেন এ দুই ব্যাটার ৪৮ রানের জুটি গড়েন। তবে এ জুটি বড় করতে পারেননি তারা। ইনিংসের সপ্তম ওভারে আরিয়ানের বলে বেয়ারস্টো আউট হলে ভাঙে এই জুটি। সাজঘরে ফেরার আগে ১৫ রান করে এই ইংলিশ ব্যাটার।
বেয়ারস্টোয়ের বিদায়ের পর আসেন জো রুট। তাকে সঙ্গে নিয়ে দলীয় ইনিংস এগিয়ে নিতে থাকেন ওপেনার মালান। তবে দলীয় ১৩৩ রানে রুট আউট হলে ভাঙে ৮৫ রানের এই জুটি। সাজঘরে ফেরার আগে ২৮ রান করেন তিনি। এদিকে সঙ্গী আউট হলে দেখে শুনে খেলতে থাকা ওপেনার মালান ফিফটির পর চড়া হতে থাকেন ডাচ বোলারদের ওপর, ছিলেন সেঞ্চুরির পথেও।
তবে দলীয় ১৩৯ রানে দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন মালান। আউট হবার আগে ৮৭ রান করেন এই ওপেনার। এরপর উইকেটে নামা হ্যারি ব্রুক ও জস বাটলার দুজনের কেউই বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। আউট হওয়ার আগে এ দুই ব্যাটার যথাক্রমে ১১ ও ৫ রান করেন।
এরপর বেন স্টোকস ও মঈন আলী দলকে এগিয়ে নিতে থাকেন। তবে উইকেটে বেশিক্ষণ থিতু হতে পারেননি মঈন দলীয় ১৯২ রানে ৪ করে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন তিনি। শেষ দিকে বেন স্টোকসের ঝড়ো শতকে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩৩৯ রানের সংগ্রহ পায় ইংলিশরা।
