শেষ সময় চলছে বাংলার কার্তিক মাসের, এই সময়ে ঝড়-বৃষ্টি, মেঘ কিছুই তেমন থাকে না। আর এই মৌসুমে কোথাও বৃষ্টিও হয়নি। তবু পুরান ঢাকার অলিগলিসহ সর্বত্রই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এটা স্বাভাবিক জলাবদ্ধতা নয়, নোংরা-কালো ও মলযুক্ত পানিতে জলাবদ্ধতা। একদিন দুইদিনের নয় এটি, বিগত ৪ দিন ধরে নিয়মিত এ জলাবদ্ধতা ও নোংরা পানি দেখা দিয়েছে।
হঠাৎ ভোরের দিকে পুরান ঢাকার অলিগলিসহ সড়ক কালো-নোংরা পানিতে জলাবদ্ধতায় রূপ নেয়। কেউ বুঝে উঠতে পারেনি অসময়ের হঠাৎ এমন জলাবদ্ধতা কোথা থেকে এলো? সেইদিন থেকে শুরু হয়ে এখন প্রতিদিন ভোর ৪টা থেকে ৫টার দিকে এমন জলাবদ্ধতা শুরু হচ্ছে, আর পানি নেমে যাচ্ছে দুপুর ১টা-২টার দিকে। যদিও গতকাল রোববার এই জলাবদ্ধতা ছিল বিকেল পর্যন্ত। শেষ সময় চলছে
পুরান ঢাকার বংশাল, আরমানিটোলা, বাংলাদেশ মাঠ, আগামাসীহ লেন, মকিমবাজার, নাজিমুদ্দিন রোড, মাজেদ সরদার রোড, নিমতলীসহ আশপাশের পুরো এলাকায় এই জলাবদ্ধতা বেশি দেখা গেলেও মৌলভী বাজার, আজিজুল্লাহ রোড, বেগম বাজার, আবুল হাসনাত রোড, পদ্মলোচন রায় লেন, কে,এম আজম লেন, নুর বক্স লেন, আলী হোসেন খান রোড, নাবালক মিয়া লেন, আর্মেনীয়াম স্ট্রিট, আবুল খায়রাত রোড, কেদৗর নাথ দে লেন, আগা নওয়াব দেউড়ী, বেচারাম দেউড়ী, হাফিজ উল্লাহ রোড, গোলাম মোস্তফা লেন, ডি,সি, রায় রোড, শরৎচন্দ্র চক্রবর্ত্তী রোড, এ, সি, রায় রোড, জেলা রোড, দিগু বাবু লেন, মকিম কাটারা, বি,কে, রায় লেন, সেন্ট্রাল জেল, যোগেন্দ্র নারায়ণ শীল স্ট্রিট, বংশাল রোড, কে,পি, ঘোষ স্ট্রিট, কসাইটুলী, গোবিন্দ দাস লেন, সৈয়দ হাসান আলী লেন, পি, কে, রায় লেন, হাজী আ. রশিদ লেন, রায় বাহাদুর ঈশ্বর চন্দ্র ঘোষ স্ট্রিট, কাজী জিয়া উদ্দীন রোড, সামসাবাদা লেন, শাহজাদা মিয়া লেন, গোপী নাথ দত্ত কবিরাজ স্ট্রিট ও হরনী স্ট্রিট, বাগডাসা লেন, হায়বাৎ নগর লেন শরৎচক্রবর্তী রোড কাজী মুদ্দিন সিদ্দিকী লেন, আকমল খান রোড, জিন্দবাহার লেন, জুমবালী লেন, নেকী দেউরী, আব্দুল হাদী লেন, নবাব কাটারা, চানখার পুল লেন, আগামসীহ লেন, শিক্কাটুলী লেন, আগা সাদেক রোড, বি, কে, গাঙ্গুলী লেন, আবুল হাসনাত রোড এলাকার বিভিন্ন অলিগলি, সড়কে এমন জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। আর নোংরা পানিতে এই জলাবদ্ধতা হওয়া এলাকাগুলো পড়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৩১, ৩২ ও ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের আওতায়।
পুরান ঢাকার আরমানিটোলার বাসিন্দা সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী বলেন, গত ৩ নভেম্বর ভোরে নামাজ পড়তে বের হলে প্রথমে এমন জলাবদ্ধতা দেখতে পাই। গত ১০/১১ দিন ধরে এমন কালো ও মল ভেসে থাকাসহ পানি দেখা যায়। এখন প্রতিদিন ভোর থেকে এমন জলাবদ্ধতা হয়ে দুপুর পর্যন্ত থাকছে। এতে করে আমাদের এলাকাবাসীদের খুবই বিড়ম্বনা হচ্ছে, এসব পানি মারিয়েই মানুষকে কাজে যেতে হচ্ছে।
