উত্তরাঞ্চলের সবজির সবচেয়ে বড় মোকাম বগুড়ার মহাস্থানহাটে এখন শীতের আগাম সবজিতে ভরপুর । ভোরের আলো ফুটতেই কৃষকরা বিভিন্ন ধরনের আগাম শীতকালীন সবজি নিয়ে চলে আসেন এই হাটটিতে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এ মোকামে চলে বেচাকেনা। হাটের এমন ব্যস্ততা প্রতিবছরের মতো থাকলেও এবারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন।
অবরোধের কারণে সবজির বেচাকেনায় স্বস্তি পাচ্ছেন না কৃষক, ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি অসময়ে হঠাৎ বৃষ্টিতে সবজির ফলনও কমেছে।
মঙ্গলবার সকালে মহাস্থানহাট ঘুরে দেখা যায়, পাইকারি বাজারে ফুলকপি বিক্রি হয়েছে ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা মণ। বেগুনের মণ ৮০০ থেকে ১ হাজার। করলা ১ হাজার থেকে ১২০০। পটলের মণ ১২০০ টাকা। মুলা বিক্রি হচ্ছে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা মণে। বরবটি প্রতি কেজি ১২ থেকে ১৫ টাকা। মিষ্টি কুমড়ার প্রতি কেজি ১৮ থেকে ২০ টাকা। প্রতি পিস বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ২৪ থেকে ২৬ টাকা করে।
তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সম্প্রতি টানা অবরোধে তাদের ব্যবসায় ধস পড়েছে। আগাম শীতকালীন সবজির ভরা মৌসুম হলেও বাইরের অনেক পাইকার আসছেন না। ফলে সবজির বেচাকেনা কমে গেছে। উপরন্তু সবজি পাঠানোর জন্য পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। শীতের আগাম সবজিতে ভরপুর
তাদের দাবি, আগে সিলেটে যাওয়ার জন্য ট্রাক ভাড়া ছিল ২২ থেকে ২৩ হাজার টাকা। ঢাকার ভাড়া ১২ হাজার টাকা এবং চট্টগ্রামের ভাড়া অন্তত ২৫ হাজার টাকা। এসব গাড়ি প্রতি ভাড়া গড়ে অন্তত পাঁচ হাজার টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে। তবে গাড়ি ভাড়া বেশি হলেও সবজি সরবরাহ ঠিক আছে।
সদর উপজেলার নামুজা এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী আব্দুস সোবহান মহাস্থান হাট থেকে প্রতি মণ শিম ক্রয় করেছেন ১৩০০ টাকা করে। পাঠাবেন চট্টগ্রামে। দুই দিন আগে কিনেছিলেন ১১০০ টাকায়। বললেন, দুই দিন আগে শিমের বাজার খারাপ ছিল। আজকে বাজারে দাম একটু বেশি। এখন অবরোধের কারণে পাঠাতেও খরচ বেশি লাগছে। কেজিতে ৩ থেকে ৫ টাকা করে বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে।
ইজিবাইক নিয়ে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার থেকে সবজি ক্রয় করতে এসেছে শামসুর রহমান। নিজ এলাকায় খুচরাভাবে বিক্রি করবেন তিনি।
