চিকিৎসা কেন্দ্র আল শিফা

 গাজা ভূখণ্ডের সবচেয়ে বড় চিকিৎসা কেন্দ্র আল শিফা হাসপাতালে ঢুকে পড়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলও নিশ্চিত করেছে, তারা আল-শিফা হাসপাতালে হামাসের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে।

অন্যদিকে হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ইসরায়েলি ট্যাংক ও বুলডোজার প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছেন আল-শিফার একজন ডাক্তার। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, ‘গোয়েন্দা তথ্য এবং অপারেশনাল প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে’ আল-শিফা হাসপাতালের বেশ কিছু অংশে তারা ‘হামাসের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট এবং টার্গেটেড অভিযান’ চালাচ্ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছে, ‘চিকিৎসা দল এবং আরবি ভাষাভাষীদের অন্তর্ভুক্ত করে গঠিত তাদের বাহিনী’ এই অভিযান চালাচ্ছে। এছাড়া জটিল এবং সংবেদনশীল এই পরিবেশে অভিযান চালাতে প্রস্তুত হওয়ার জন্য ওই দলটি নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ নিয়েছে’ বলেও দাবি করা হয়েছে।

ইসরায়েলের দাবি, ‘হামাস যাদের মানব ঢাল হিসাবে ব্যবহার করছে সেইসব বেসামরিক নাগরিকদের কোনও ক্ষতি হবে না’। আইডিএফ বলেছে, তারা সম্প্রতি গাজার কর্তৃপক্ষকে হাসপাতালের মধ্যে সমস্ত সামরিক কার্যকলাপ বন্ধ করতে বলেছিল, কিন্তু তা করা হয়নি।

বিবিসি অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েলি এই দাবি যাচাই করতে পারেনি বলে জানানো হয়েছে।

গাজার বৃহত্তম এই চিকিৎসা কেন্দ্রে রোগী ও চিকিৎসা কর্মীসহ হাজার হাজার বেসামরিক নাগরিক হাসপাতালে এবং এর আশপাশে আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে। অবশ্য হামাস তার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য হাসপাতাল ব্যবহার করার বিষয়টি অস্বীকার করেছে এবং এ বিষয়ে কোনও আন্তর্জাতিক কমিটিকে এসে পরিদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। চিকিৎসা কেন্দ্র আল শিফা

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জোর দিয়ে দাবি করছে, হাসপাতালের নিচে অবস্থিত একটি টানেলে হামাস কমান্ড-এন্ড-কন্ট্রোল সেন্টার পরিচালনা করছে। তবে হামাস এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এটি অস্বীকার করেছে।

পরে যুক্তরাষ্ট্রও দাবি করে, হাসপাতালের নিচে হামাসের কমান্ড সেন্টার রয়েছে বলে তাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।

এদিকে আল জাজিরা জানিয়েছে, গাজার আল-শিফা হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ইসরায়েলি ট্যাংক ও বুলডোজার প্রবেশ করেছে। আল-শিফার ডাক্তার মোখাল্লালাতি বলেছেন, ইসরায়েলি বাহিনী আল-শিফা কমপ্লেক্সের ভেতরে রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও পর্যাপ্ত তথ্যের ঘাটতি রয়েছে।

মোখাল্লালাতি বলেন, আমরা হাসপাতালের কেন্দ্রে ট্যাংক এবং বুলডোজার দেখেছি।

তিনি বলেন, তিনি হাসপাতালের জরুরি কক্ষের ওপরে মূল ভবনটি পরিদর্শন করেছেন এবং ইসরায়েলি বাহিনী সেখানে প্রবেশ করেছে বলে মনে হচ্ছে না। কিন্তু তিনি বলেছেন, তিনি অন্যান্য ভবনগুলোর অবস্থা জানেন না যেগুলোতে রোগী এবং বাস্তুচ্যুত লোকরা অবস্থান করছেন।

মোখাল্লালাতি আল জাজিরাকে বলেছেন, ‘এখনও ভারী গোলাগুলি হচ্ছে এবং আমরা সর্বত্র বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাচ্ছি।

এর আগে আল-শিফা হাসপাতালের চারদিক থেকে ট্যাংক দিয়ে ঘিরে ফেলে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। এই হাসপাতালের ভেতরে শত শত রোগী রয়েছেন; যাদের মধ্যে অনেক শিশুও আছে। জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে হাসপাতালটির জেনারেটর। যে কারণে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রোগীরা এখন মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।

দিল্লির বাতাস দূষিত

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments