শেয়ারবাজারে ফ্লোর প্রাইসের মধ্যেও সুবিধায় রয়েছে বড় ও প্রভাবশালী বিনিয়োগকারীরা। যাদের ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ আছে, তারা ব্লক মার্কেটে বাজারমূল্যের চেয়ে ১০ শতাংশ কম দামে শেয়ার কিনছে। আবার সুযোগ বুঝে বেশি দামে বিক্রি করছে।
এ কারণে বর্তমানে বাজারে ব্লক মার্কেটকেন্দ্রিক একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এতে আটকা পড়েছে সাধারণ ও ক্ষুব্ধ বিনিয়োগকারী। বিশ্লেষকরা বলছেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে এসব সিন্ডিকেট চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন বলছে, বিষয়টি তারা নজরদারি করছে। কেউ আইন লঙ্ঘন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অর্থনীতিবিদ ও শেয়ারবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ব্লক মার্কেটকেন্দ্রিক কিছু কোম্পানির শেয়ারে অস্বাভাবিক লেনদেন হয়। কারণ কারও বিনিয়োগ ৫ লাখ টাকার কম হলে এখানে লেনদেন করা যায় না। আমাদের পরামর্শ ছিল এটি আড়াই লাখ করা। কিন্তু তা আমলে নেওয়া হয়নি। এটি করা হলেও অনেকে সুযোগ পেত। তবে তিনি বলেন, মূল কথা হলো ফ্লোর প্রাইস তুলে নিতে হবে। না হলে বাজারের সমস্যা কাটবে না।
জানা গেছে, কোনো কোম্পানির শেয়ারের অতিরিক্ত লেনদেন, ওই কোম্পানির শেয়ারে যাতে কোনো প্রভাব না ফেলে এজন্য ব্লক মার্কেট চালু করা হয়। এই মার্কেটে ক্রেতা-বিক্রেতা পূর্বনির্ধারিত। এখানে বাজারমূল্যের চেয়ে ১০ শতাংশ কম বা বেশি দামে শেয়ার লেনদেন করা যায়। অর্থাৎ কোনো একটি কোম্পানির শেয়ারের বাজারমূল্য ১০০ টাকা। ব্লক মার্কেটে এটি সর্বনিম্ন ৯০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ১০০ টাকায় লেনদেন করা যাবে।
এদিকে গত বছরের ২৮ জুলাই বাজারে দ্বিতীয়বারের মতো ফ্লোর প্রাইস আরোপ করে বিএসইসি। ফ্লোর প্রাইসের কারণে ২ শতাধিক কোম্পানি আটকে যায়। তবে ফ্লোর প্রাইসের ক্ষেত্রে ব্লক মার্কেটে বাজারমূল্যের চেয়ে ১০ শতাংশ কম দামে শেয়ার লেনদেনের সুযোগ ছিল না। কিছু মানুষকে সুবিধা দিতে গত বছরের নভেম্বরে চালু হয় নতুন নিয়ম। এ সময় একটি সার্কুলারের মাধ্যমে বাজারমূল্যের চেয়ে ১০ শতাংশ কম দামে লেনদেন চালু করে বিএসইসি। শেয়ারবাজারে ফ্লোর প্রাইসের
নিয়ম অনুসারে কোনো বিনিয়োগকারীর ৫ লাখ টাকা বা তার বেশি বিনিয়োগ থাকলে, ব্লক মার্কেটে লেনদেন করতে পারে। আর এ সুযোগ লুফে নেয় সিন্ডিকেট। তারা ব্লক মার্কেট থেকে ১০ শতাংশ কম দামে শেয়ার কিনে মূল বাজারে তা ১০ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি করছে। এর সঙ্গে ব্রোকারেজ হাউজ এবং মার্চেন্ট ব্যাংকের কর্মকর্তারাও জড়িত রয়েছে।
গত দুই মাসের লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ১ অক্টোবর ১৪৫টি কোম্পানি ফ্লোর প্রাইসে ছিল। মূল মার্কেটে এসব কোম্পানির কোনো লেনদেন হয়নি। কিন্তু ব্লক মার্কেটে একটি অর্ডারে ন্যাশনাল ব্যাংকের ৫০ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। একইদিন ৪ লাখ ৮১ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে এমারেল্ড অয়েলের। ৯ লাখ ১৪ হাজার শেয়ার লেনদেন হয়েছে সিএনএ টেক্সটাইলের।
