ঘূর্ণিঝড় মিধিলির কারণে দেশে বিশেষত ফলফসলে ক্ষয়ক্ষতির রেশ কাটতে না কাটতেই সাগরে ফের ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি এবং বাংলাদেশেও এর ধাক্কা আসা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ মুহূর্তে আন্দামান সাগরের কাছে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। সেখান থেকে আজকালের মধ্যে লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে এমনটি আভাস দিচ্ছে আন্তর্জাতিক আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলো। এরপরে লঘুচাপটি শক্তি সঞ্চয় ও ঘনীভূত হয়ে আগামী তিন চার দিনের মধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলে এর নাম হবে ‘মিচাউং’। যা মিয়ানমারের দেয়া নাম।
এ নিয়ে চলতি ২০২৩ সালে এ যাবৎ বঙ্গোপসাগরে চতুর্থ দফায় ঘূর্ণিঝড় হতে চলেছে মিচাউং? থাইল্যান্ড সাগর থেকে এসে আন্দামান সাগর হয়ে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপের এই ঘনঘটা আজকাল তৈরি হতে পারে।
বঙ্গোপসাগরে চলতি বছরের মধ্যে এ পর্যন্ত তিনটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি ও আঘাত হেনেছে। সব ক›টি ঘূর্ণিঝড় কমবেশি বাংলাদেশের উপকূলে প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যে গত ৯ মে ঘূর্ণিঝড় ‘মোখা’, ২১ অক্টোবর ঘূর্ণিঝড় ‘হামুন’ এবং সর্বশেষ ১৭ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’ আঘাত হানে। আরেকটি ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হলে তা হবে এ বছরের জন্য চতুর্থ ঘূর্ণিঝড়। বাংলাদেশে স্মরণকালের মধ্যে বঙ্গোপসাগর ও ভারত মহাসাগরে এ বছরেই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক লঘুচাপ, নিম্নচাপ, গভীর নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের আবহ সৃষ্ট হয়ে আসছে।
বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, আবহাওয়াগত অস্বাভাবিকতা ‘এল নিনো’ অবস্থার প্রভাবে বিশ্বের উষ্ণতম বছর অতিবাহিত হচ্ছে চলতি ২০২৩ সাল। এ কারণে এলোমেলো আবহাওয়া অব্যাহত রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, খরা অনাবৃষ্টি, হঠাৎ অতিবৃষ্টি, বন্যা, ঢল, পানিবদ্ধতা, তাপপ্রবাহ বা উচ্চতম তাপমাত্রা, ভ্যাপসা গরম, অতিমাত্রায় বায়ুদূষণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে বিরাজ করছে চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়া। অনেক সময়ই আবহাওয়া পূর্বাভাস মিলছে না।
মিধিলির পর বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হতে চলেছে মিগজাউম নামের আরেকটি ঘূর্ণিঝড়। এর কবলে প্রভাবিত হতে পারে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারের উপকূল। ফলফসলে ক্ষয়ক্ষতির রেশ
আন্তর্জাতিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস সংস্থা স্কাইমেট ওয়েদার জানায়, এটি হতে পারে চলতি বছরে বঙ্গোপসাগরে চতুর্থ ঘূর্ণিঝড়। পূর্বাভাস অনুসারে আগামী ২৬ অথবা ২৭ নভেম্বর থাইল্যান্ড উপসাগর থেকে বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত প্রবেশ করবে। ক্রমশ এটি উত্তর পশ্চিমদিকে এগিয়ে শক্তি সঞ্চয় করবে। ধাপে ধাপে শক্তি বাড়িয়ে ২৯ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।
