লন্ডনপ্রবাসী ইমরান হোসেন তিন মাস অন্তর ১ হাজার ২০০ ব্রিটিশ পাউন্ড দেশে পাঠাতেন। বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার একটি অংশ ব্যয় হতো পরিবারের খরচ মেটাতে। আরেকটি অংশ জমা রাখতেন ব্যাংকে। তবে আপাতত আর বিদেশ থেকে অর্থ না পাঠিয়ে দেশে জমানো টাকা থেকে পরিবারের খরচ মেটাচ্ছেন। দুটি কারণে তিনি এমন কৌশল নিয়েছেন।
তাঁর ধারণা, বৈদেশিক মুদ্রার দর আরও বাড়বে। আবার লন্ডনের ব্যাংকে অর্থ রেখেও এখন ভালো মুনাফা পাচ্ছেন।
ইমরান হোসেনের রেমিট্যান্সের সুবিধাভোগীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক যোগাযোগ করে জানতে পেরেছে, লন্ডনে তিন মাস মেয়াদে অর্থ রেখে ৬ শতাংশ হারে সুদ পাওয়া যাচ্ছে। দেশে ভালো ব্যাংকে আমানতের সুদহার এ রকমই। আবার বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে প্রতিনিয়ত টাকা দুর্বল হচ্ছে। ফলে যত দেরিতে অর্থ পাঠাবেন, দর মিলবে তত বেশি। লন্ডনপ্রবাসী ইমরান হোসেন
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রবাসী আয়ের চলতি মাসের চিত্র দেখলেও এর সত্যতা মেলে। গত ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত মাত্র ১৪৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। মাসের প্রথম দিকে বিনিময় হারে শিথিলতা ছিল। যে কারণে প্রথম ১০ দিনে ৭৯ কোটি ৪৪ লাখ ডলার তথা দৈনিক গড়ে ৭ কোটি ৯৪ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে ৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় এবিবি ও বাফেদা বৈঠক করে জানিয়ে দেয়, নির্ধারিত দরেই ডলার কিনতে হবে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঢাকায় চারটি টিম গঠন করে বিভিন্ন ব্যাংকে পরিদর্শনে পাঠায়। ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন ব্যাংকে পরিদর্শন চলছে। এ পরিস্থিতিতে গত ১১ নভেম্বর থেকে পরের ১৪ দিনে এসেছে মাত্র ৬৯ কোটি ৮৫ লাখ ডলার, যা দৈনিক ৪ কোটি ৯৯ লাখ ডলার। এর মানে, দর নিয়ে কড়াকড়ির পরই প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ কোটি ডলার কম এসেছে। গত মাসে ১৯৮ কোটি ডলারের রেমিট্যান্স আসে।
