দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার প্রচারণা শুরু হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দ পেয়েই নির্বাচন প্রচারে নেমে পড়েছেন।
অনেকে নির্বাচনি পোস্টার আগেই ছেপে রেখেছিলেন, গতকাল নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় তা টানানো শুরু হয়েছে। শতাধিক আসনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের। প্রচারণার শুরুতে কিছু জায়গায় সংঘাত-সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে।
দুর্গম এলাকা ছাড়া নির্বাচনে মহানগর, জেলা ও উপজেলা সদরসহ অধিকাংশ এলাকায় ভোটের দিন সকালে ব্যালট পেপার পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেনা মোতায়েনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে চিঠি দিয়ে ইসি বলেছে, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে সেনা মোতায়েন করতে হবে। ২৯ জানুয়ারি থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন থাকবেন।
রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যেই গত ১৫ নভেম্বর দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তপসিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। ১৬টি রাজনৈতিক দল নির্বাচন বর্জন করে রাজপথে আন্দোলনে রয়েছে। অন্যদিকে ২৭টি রাজনৈতিক দল এবারের ভোটে অংশ নিচ্ছে। গণতন্ত্রী পার্টির নেতৃত্বের বিরোধের কারণে সব প্রার্থী বাতিল করেছে ইসি। বিএনপিসহ সমমনা রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচন বর্জন করায় ভোটের মাঠে উৎসবের আমেজ কিছুটা কম। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার
গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ১ হাজার ৮৯৬ জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করেন রিটার্নিং অফিসাররা। এর মধ্যে ৩৭৮ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। আদালত থেকে ইতিমধ্যে ৯ জনের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার খবর এসেছে। তবে নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে ২৬৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন প্রার্থীরা। এর মধ্যে ২৬৩ জন আওয়ামী লীগ মনোনীত আর ছয় জন ১৪ দলীয় জোটের। তবে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের। শতাধিক আসনে চ্যালেঞ্জে পড়তে পারেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। কেননা, আওয়ামী লীগের ২৮ জন সংসদ সদস্য এবার স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন।
জাতীয় পার্টির (জাপা) জন্য আওয়ামী লীগ ২৬টি আসন থেকে নৌকা প্রতীক প্রত্যাহার করে নিলেও লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়তে পারে জাপা। বিভিন্ন জেলার ডিসি কার্যালয় থেকে প্রতীক পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রচারণায় নেমে পড়েন প্রার্থীরা। অনেক প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবার অনেকেই নিয়ম মেনে শুরুতেই প্রচারণা শুরু করেছেন।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি নৌকা প্রতীক পেয়েই পিরোজপুর জেলা সদর, স্বরূপকাঠি, ভাণ্ডারিয়া, কাউখালী ও ইন্দুরকানী উপজেলা থেকে আগত আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠন এবং জাতীয় পার্টি-জেপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। চট্টগ্রাম-৭ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ নির্বাচনি এলাকায় সাইকেল চালিয়ে প্রচার শুরু করেন। লাঙ্গলের পক্ষে ভোট চেয়ে বিশাল শোডাউন করেন ঢাকা-৪ আসনে জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা।
