মহাগ্রন্থ আল কুরআন মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি আমল-আখলাক, মুয়ামালাত-মুয়াশারাত, জীবন-দর্শন, তাহজিব-তামাদ্দুন, সভ্যতা-সংস্কৃতি, জ্ঞান-বিজ্ঞান, আচার-আচরণ, শিক্ষা-বিজ্ঞান, নীতি-নৈতিকতা,আদর্শ-অনুপম, ভোগ-বিনোদনের পাশাপাশি পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয়, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, আন্তর্জাতিক, কূটনৈতিক, ব্যবসায়-বাণিজ্য, সর্ব ক্ষেত্রের জন্য গাইডলাইন। এ জন্য আল্লাহ তায়ালা বলেছেন- ‘কুরআনে আমি কোনো কিছুই বাদ দেইনি’ (সূরা আনয়াম-৩৮)।
কুরআন যেমনিভাবে ব্যক্তিজীবনের ব্যাপারে বলেছেন- ‘ইসলামের মধ্যে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করো’ (সূরা বাকারা-২০৮)। তেমনি সমাজ ও জাতীয় জীবনের জন্য বলেছেন- ‘নিশ্চয়ই এই কুরআন সেই পথ দেখায় যা সোজা ও সুপ্রতিষ্ঠিত’ (সূরা বনি ইসরাইল-৯)। আবার পারিবারিক জীবনের ব্যাপারে বলেছেন- ‘তাদের সাথে দয়া ও সততার সাথে জীবন যাপন করো’ (সূরা নিসা-১৯)।
নিকট আত্মীয়ের হকের ব্যাপারে উৎসাহিত করেছেন- ‘মাতা-পিতা, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতিম, অভাবগ্রস্ত, নিকট প্রতিবেশী, দূর প্রতিবেশী, সাথী, মুসাফির ও তোমাদের আয়ত্তাধীন দাস-দাসীদের সাথে সদ্ব্যবহার করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ ওই লোককে ভালোবাসেন না, যে অহঙ্কারী, দাম্ভিক’ (সূরা নিসা-৬)। মহাগ্রন্থ আল কুরআন
সমগ্র মানুষের কল্যাণই কুরআনের মিশন, তাই তো বলা হয়েছে- ‘মানুষের কল্যাণ সাধন করো, যেমন আল্লাহ তোমার কল্যাণ করেছেন, দেশে বিপর্যয় সৃষ্টির কামনা করো না, নিশ্চয় আল্লাহ বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের ভালোবাসেন না’ (সূরা কাসাস-৭৭)।
রাষ্ট্রীয়ভাবে যাতে কোনো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এ জন্য শাসক নির্বাচনের উৎসাহিত করতে বলা হয়েছে- ‘তোমার নিকট হতে আমাকে এক সাহায্যকারী শক্তি দান করো’ (সূরা বনি ইসরাইল-৮০)।
এমনকি কোনো মানুষ জাতি বিচার থেকে বঞ্চিত না হয় এ জন্য বলা হয়েছে- ‘আল্লাহ যা নাজিল করেছেন, সে অনুযায়ী যারা বিচার ফয়সালা করে না তারাই কাফির’ (সূরা মায়িদা-৪৪)।
আজ প্রযুক্তির কল্যাণে প্রতিদিন নতুন নতুন বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব আবিষ্কার হচ্ছে। আজকের আধুনিক বিজ্ঞান যা নতুন আবিষ্কার করছে তা কুরআনে বিশদভাবে আলোচনা করা হয়েছে তা প্রমাণ করা হয়েছে। এ জন্য প্রিয় নবী সা:-কে সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক হিসেবে মর্যাদা দেয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা মানুষদের আল-কুরআন নিয়ে গবেষণা করতে বলেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন- ‘আমি তোমার প্রতি এমন এক বরকতময় কিতাব নাজিল করেছি, যেন মানুষ তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে, আর শুধু বোধসম্পন্ন ব্যক্তিরা তা থেকে (কুরআন) উপদেশ গ্রহণ করে’ (সূরা সাদ-২৯)।
সর্বোপরি কুরআন শুধু স্বর্গীয় গ্রন্থই নয়; বরং এটি হচ্ছে মানবজীবন পরিচালনা করার জন্য একটি সংবিধান। আমাদের উচিত হবে কুরআনময় জীবন গঠন করা যাতে করে দুনিয়া এবং আখিরাতে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারি।
