ক্রিকেট জীবন নাকি খুব সহজ গুড লেন্থের বল ব্লক করতে হবে, অফ স্টাম্পের বাইরের ভালো বল ছেড়ে দিতে হবে, ফুল লেন্থে বল পেলে বাউন্ডারি মারতে হবে। আর খেলা সম্ভব নয় এমন বাউন্সে ডাক করতে হবে। ধোনিকে নিয়ে বানানো সিনেমায় এমন একটা ডায়লগ ছিল।
ওই মন্তব্যের পাল্টা দিয়ে ধোনি বলেছিলেন, ক্যারিয়ারের বাউন্সারই তো শেষ হচ্ছে না। সৌম্য সরকার তেমনি একের পর এক বাউন্সারে পর্যদুস্ত হওয়া দীর্ঘ কটা বছর পার করেছেন। অবশেষে চন্ডিকা হাথুরুসিংহে কোচ হয়ে এসে তাকে সুযোগ দিয়েছেন এবং ১৬৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছেন তিনি।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওই ইনিংস নিয়ে ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সৌম্য জানিয়েছেন, তার ক্যারিয়ারের বাউন্সারে অর্থাৎ খারাপ সময়ে তিনি ক্রিকেট নিয়ে সংবাদ দেখা ছেড়ে দিয়েছিলেন। কোন বন্ধু ক্রিকেট নিয়ে কথা বললে তার সঙ্গে থাকেননি। জীবন নাকি খুব সহজ
তিনি বলেন, ‘বাজে সময় নিয়ে ভাবলে নিজের ওপর চাপ আসতো, নেতিবাচক চিন্তা বেশি আসত। সেজন্য আমি খেলায় মনোযোগ রেখেছিলাম, নিজের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম। কোচ (হাথুরুসিংহে) হয়তো আমাকে ভালো বোঝেন, উনি কিছু বলেছেন সেটা ক্লিক করেছে। উনি অনেক সাপোর্ট করেছেন। যতটুকু অনুশীলন করেছি, ছোট ছোট জিসিন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
খারাপ সময়ে পাশে থাকায় পরিবার ও স্ত্রীকে ধন্যবাদ দিয়েছেন বাঁ-হাতি ব্যাটার ও ডানহাতি মিডিয়াম পেসার সৌম্য, ‘গত এক বছর কোন নিউজ আমার ফিডে আসে না। কোন বন্ধু ক্রিকেট নিয়ে কথা বললে আমি তার সঙ্গে থাকি না। যে পজিটিভ কথা বলে তার সঙ্গে থাকি। আমরা ক্রিকেটার। ক্যারিয়ারে ভালো খারাপ থাকবে, কিন্তু ক্রিকেট তো ছেড়ে চলে যেতে পারব না। ক্রিকেটের জন্যই পরিশ্রম করছি।
সৌম্য দারুণ সেঞ্চুরি করায় ম্যাচ সেরা হয়েছেন। তবে দল হেরেছে ৭ উইকেটে। যা তার সেঞ্চুরির আনন্দ কমিয়েছে, ‘সেঞ্চুরির পথে কিছু ভালো জিনিস ছিল। পঞ্চাশ করার পরে ইনিংসটা সেঞ্চুরিতে নিয়ে গেছি। সেখান থেকে ইনিংস বড় করতে পেরেছি। তবে ম্যাচটা জিতলে ভালো লাগতো। অমাদের দ্রুত উইকেটে পড়ে গিয়েছিল। টপে কিছু উইকেট থাকলে, মুশফিক ভাই ও মিরাজ আউট না হলে আরও বেশি রান হতো। পরিস্থিতিও ভিন্ন হতো।
