গাজায় হামলার প্রভাব পড়ছে

গাজায় হামলার প্রভাব পড়ছে ইসরায়েলের অর্থনীতিতে। আগামী বছরের প্রথম তিন মাসে ইসরায়েলের অর্থনীতি ২ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাসের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে হাজার হাজার শ্রমিক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সেই সঙ্গে রিজার্ভ সেনাদের তলব করা হয়েছে। এসব কারণে ইসরায়েল অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ছে। প্রভাবশালী একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জরিপের বরাত দিয়ে সোমবার নিউইয়র্ক টাইমস এ খবর জানায়।

ইসরায়েলের থিঙ্কট্যাঙ্ক তাউব সেন্টার ফর সোশ্যাল পলিসি স্টাডিজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অক্টোবরের পর ইসরায়েলের শ্রমবাজার থেকে ২০ শতাংশ শ্রমিক অন্যত্র চলে গেছেন। এর মধ্যে যুদ্ধ শুরুর আগেই ৩ শতাংশ সরে গেছেন। যুদ্ধ করার জন্য প্রায় ৯ লাখ লোককে তলব করা হয়েছে। হিজবুল্লাহর হামলার জেরে লেবানন সীমান্তবর্তী শহরগুলো থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। গাজা সীমান্তের কাছের শহরগুলোও শূন্য হয়ে পড়েছে। এসবই ইসরায়েলের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ জন্য আগামী বছর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আগের ধারণার চেয়ে কম হবে।

শুধু ইসরায়েলই নয়, যুদ্ধের প্রভাবে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের অর্থনীতিও নেতিবাচক পরিস্থিতির মোকাবিলা করছে। সেখানে ব্যাংকগুলোতে লেনদেন কমেছে। বিভিন্ন উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ড থমকে আছে। গাজায় হামলার পাশাপাশি পশ্চিম তীরেও হত্যা ও ধরপাকড় বাড়িয়েছে ইসরায়েল। এসবের প্রভাব সরাসরি পড়েছে ইসরায়েলের অর্থনীতিতে। গাজায় হামলার প্রভাব পড়ছে

এ পরিস্থিতিতেও গাজায় হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সোমবার গাজা সফরে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। হামলা কমানো ও বেসামরিক প্রাণহানি ঠেকাতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেনের আহ্বানের কয়েক দিনের মধ্যে নেতানিয়াহু এ ঘোষণা দিলেন।

গাজায় অব্যাহত ইসরায়েলি হামলায় প্রতিদিনই নারী-শিশুসহ বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি হচ্ছে। সোমবার বড়দিনটি ছিল গাজাবাসীর জন্য গত কয়েক দিনের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। ফিলিস্তিনিদের রক্তের বন্যা বইয়ে দিনটিকে উদযাপন করেছে ইসরায়েল। শরণার্থী শিবিরসহ বিভিন্ন স্থানে হামলায় এদিন ২৫০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। আহত হন পাঁচ শতাধিক। এ পর্যন্ত যুদ্ধে ২০ হাজার ৬০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি মারা গেছেন।

তবুও নৃশংস এ হামলা থামার লক্ষণ নেই। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থার কর্মকর্তা গেমা কোনেল বিবিসিকে বলেছেন, গাজায় ইসরায়েলের হামলায় কোনো সম্ভাব্য বিরতি দেখছেন না তিনি। মধ্য গাজার আল-আকসা হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে তিনি বলেন, হামলায় গুরুতর আহত এমন অনেক ব্যক্তি আছেন, যাদের কোনো চিকিৎসাই হবে না। কারণ, হাসপাতালে তিল ধারণের জায়গা নেই।

ইমরান খানের দলের পক্ষে রায় দিলো আদালত


0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments