বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার

নিকট মেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারের ওপর দর ছেড়ে দেবে না বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এখনকার সর্বোচ্চ দর নির্ধারণ পদ্ধতির পরিবর্তন করে নতুন একটি ব্যবস্থা চালু করা হবে। 

নতুন ব্যবস্থায় বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি মধ্যবর্তী দর ঘোষণা করে তার সঙ্গে সর্বোচ্চ কত শতাংশ ওঠানামা করবে, তার করিডোর থাকবে। বর্তমানে সুদহারের ক্ষেত্রে স্মার্ট রেটের সঙ্গে যেমন করিডোর রয়েছে, বিনিময় হারের ক্ষেত্রেও তেমনই হবে। 

আইএমএফের পরামর্শ নতুন এ ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের ওপর আইএমএফ প্রকাশিত কান্ট্রি রিপোর্টে নতুন বিনিময় হার ব্যবস্থার বিষয়ে একটি ধারণা দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার বিআইডিএসের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠানে বিনিময় হারের নতুন ব্যবস্থা চালুর কাজ চলছে বলে জানান। এ ছাড়া আইএমএফের কান্ট্রি রিপোর্ট প্রকাশের আগে বাংলাদেশ বিষয়ে ভার্চুয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে আইএমএফ মিশনপ্রধান রাহুল আনন্দ বলেছেন, বিনিময় হারের নতুন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সংস্থাটির পক্ষ থেকে কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, নতুন ব্যবস্থায় বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে বৈদেশিক মুদ্রার একটি মধ্যবর্তী দর দেওয়া হবে। এর সঙ্গে সর্বোচ্চ কত শতাংশ ওঠানামা করতে পারবে, তা নির্ধারণ করে দেওয়া হবে। সীমার মধ্যে ব্যাংকগুলো ডলার বেচাকেনা করছে কি না, কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা তদারকি করবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক হয়তো ডলারের মধ্যবর্তী দর ঠিক করল ১১২ টাকা। এর সঙ্গে তিন শতাংশ ওঠানামা করার সুযোগ রাখল। তখন ১১২ টাকার সঙ্গে তিন শতাংশের বেশি ওঠানামা করতে পারবে না।

আইএমএফের রিপোর্টে বলা হয়েছে, পুরোপুরি ভাসমান বিনিময় হার ব্যবস্থায় যেতে হবে খুব সতর্কভাবে, যাতে করে এই পরিবর্তন কোনো সমস্যা তৈরি না করে। সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি এবং রাজস্ব নীতির অংশ হিসেবে এই পরিবর্তন ঘটবে; যা বৈদেশিক লেনদেনে বাংলাদেশের পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাবে। এতে আরও বলা হয়েছে, বিনিময় হার ব্যবস্থা অধিকতর নমনীয় করার জন্য যথেষ্ট তারল্য থাকা জরুরি। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার

আবার দক্ষতার সঙ্গে ব্যবস্থাপনা করতে না পারলে বেশ ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষ করে ডলারের দর অনেক বেড়ে যেতে পারে। মূল্যস্ফীতির ওপর যা ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। বিদেশি ঋণ পরিশোধের খরচ বাড়তে পারে। আবার বেসরকারি খাতও ঝুঁকিতে পড়তে পারে। ফলে বিনিময় হার ব্যবস্থা নমনীয় করার আগে মুদ্রানীতি, রাজস্ব নীতি এবং আর্থিক নীতির মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। পরিবর্তন সফল হলে দীর্ঘ মেয়াদে সামগ্রিক অর্থনীতিতে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

লাঙ্গলে ভোট চাইলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী 

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments