দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র দুই দিন। ভোট যত ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনী মাঠ তত উত্তপ্ত হচ্ছে। বাড়ছে সহিংসতা। সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী সমর্থকদের মধ্যে।
বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হচ্ছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের। আক্রান্ত হচ্ছেন প্রার্থীরাও। এ ছাড়াও প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে আনছেন নানা অভিযোগ। এসব অভিযোগ জমা পড়েছে নির্বাচন কমিশনে (ইসি)। বিভিন্ন আসনে প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তারা নানা শঙ্কাও প্রকাশ করছেন।
গত কয়েকদিনে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই এমন কথা বলে বেশ কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরেও দাঁড়িয়েছেন। এর মধ্যে সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির বেশ কয়েকজন প্রার্থীও রয়েছেন।
গত ১৮ই ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দের পর প্রচার-প্রচারণা শুরু করেন প্রার্থীরা। ইসিতে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে পাঁচ শ’ অভিযোগ জমা পড়েছে। নির্বাচনী পরিবেশ ঠিক রাখতে নির্বাচন কমিশন এবার ৩০০ আসনেই জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি কমিটি গঠন করে। ভোটের মাঠ মসৃণ রাখতে কাজ করছেন তারা।
প্রচার-প্রচারণায় বাধা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, হুমকি-ধমকিসহ নানা ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন রাজবাড়ী-২ (পাংশা-বালিয়াকান্দি-কালুখালী) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরে আলম সিদ্দিকী হক। নির্বাচনের বাকি আর মাত্র
মানিকগঞ্জ-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের ওপর দুই দফা হামলার ঘটনায় তিন কর্মী আহত হয়। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকের প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ২২শে ডিসেম্বর চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী গিয়াস উদ্দিনের সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর একাধিক কর্মী আতহ হন। এসব হামলার অভিযোগ নৌকার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এর একদিন পর চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জামাল উদ্দিন চৌধুরীর কর্মীদের ওপর নৌকার প্রার্থী মাহফুজুর রহমান মিতার কর্মীরা হামলা করে। এতে উভয় পক্ষের চার জন আহত হয়।
চট্টগ্রাম-১২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর কর্মীদের ওপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়াও তার গাড়িবহরে গুলি করা হয়। ভাঙচুর করা হয় অন্তত ১২টি গাড়ি ও সাতটি নির্বাচনী ক্যাম্প।
