বঙ্গবন্ধুকন্যা ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্মার্ট মন্ত্রিসভার পথচলা শুরু হতে পারে মধ্য জানুয়ারিতে। প্রবীণ-তারুণ্যের মিশেল থাকবে এই মন্ত্রিসভায়।
নতুন মন্ত্রিসভায় প্রাধান্য দেওয়া হবে নতুনদের। বর্তমান মন্ত্রিসভার অনেকেই ছিটকে পড়তে পারেন।
আওয়ামী লীগের কয়েকজন নীতিনির্ধারক নেতা গতকাল সোমবার সমকালের সঙ্গে আলাপকালে এমন আভাস দিয়েছেন। তারা বলেছেন, জানুয়ারিতেই দ্বাদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বানের সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে গঠন করা হবে স্মার্ট নতুন মন্ত্রিসভা।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, গেজেট প্রকাশের পর সংসদের সদস্যরা শপথ নেবেন। এর পর সংসদীয় পার্টির বৈঠকে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করা হবে। তিনি আরও বলেন, নতুন সরকার গঠন করবে আওয়ামী লীগ। আর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হবে নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক সমকালকে জানিয়েছেন, স্মার্ট মন্ত্রিসভা গঠন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জানুয়ারি থেকেই এই মন্ত্রিসভার পথচলা শুরু হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সব সময়ই নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রাক্কালে অনেকেই বাদ পড়েন। এবারও সেই সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এবার অনেক নতুন মুখ আসবে। স্মার্ট মন্ত্রিসভার পথচলা শুরু
আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের কয়েকজন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন মন্ত্রিসভা গঠন নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আলোচনা করেননি। তবে মন্ত্রিসভায় নতুনদের প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়ে এক ধরনের ইতিবাচক ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে একাধিকবার নির্বাচিত হয়ে আসা এমপিরা প্রাধান্য পেতে পারেন।
বর্তমান মন্ত্রিসভার অনেকেই বাদ পড়তে পারেন। বিশেষ করে দায়িত্ব পালনের বেলায় যারা খুব একটা দক্ষতা দেখাতে পারেননি, তারা নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন না।
এদিকে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের আগে জাতীয় সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ এবং শপথের কার্যক্রম শেষ করতে হবে। এ জন্য নির্বাচন কমিশন ও সংসদের কিছু প্রাসঙ্গিক কর্মকাণ্ড রয়েছে। সেই কাজগুলো শেষ হওয়ার পর নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হবে। আর নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার পর আগের মন্ত্রিসভা বাতিল হয়ে যাবে।
মন্ত্রিসভা গঠনের আগে রাজধানীতে জনসভা করবে আওয়ামী লীগ। দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামীকাল ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে রাজধানীতে জনসভা হবে। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠেয় ওই জনসভায় প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা নীতিনির্ধারণী ভাষণ দেবেন বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি।
এই জনসভার পর মন্ত্রিসভা গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। আর আগামী দু-একদিনের মধ্যেই নির্বাচন কমিশন সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের গেজেট প্রকাশ করবে। গেজেট প্রকাশের পর স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী আগে এমপি হিসেবে নিজে শপথ নেবেন এবং দ্বাদশ জাতীয় সংসদের সদস্যদের শপথ করাবেন। মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর দ্বাদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করবেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন।
গত রোববার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বেসরকারিভাবে নির্বাচিত অধিকাংশ সংসদ সদস্য এখনও নিজেদের নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের অনেক নেতাও রয়েছেন। আগামী দু-একদিনের মধ্যে তারা ঢাকায় আসার পর নতুন সংসদ অধিবেশন আহ্বানের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে এ নিয়ে দলের নেতারা প্রাথমিক পর্যায়ে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সমকালকে জানিয়েছেন, সংবিধান মেনেই নতুন সংসদের কার্যক্রম শুরু করা হবে। তিনি এবারের নির্বাচনেও রংপুর-৬ আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। স্পিকার গতকাল সোমবার পর্যন্ত নিজের নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করছিলেন। আগামীকাল বুধবার তাঁর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে। এর পরই নতুন সংসদের অধিবেশন ডাকা নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে। আগামী ২৯ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদের মেয়াদ পূর্ণ হবে।
২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে দেশ পরিচালনার সুযোগ পায় আওয়ামী লীগ। ওই বছরের ১২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে তৎকালীন সরকারের মন্ত্রিসভা গঠিত হয়। ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ইতিহাস গড়ে বিজয় হয় আওয়ামী লীগের।
