সরকারের সামনে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উচ্চ মূল্যস্ফীতি। নিত্যপ্রয়োজনীয় অধিকাংশ পণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, তা নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। তাই নতুন ভাবে সরকার গঠনের পর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং বিভিন্ন সংস্কার কর্মসূচি রয়েছে অগ্রাধিকারের তালিকায়। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নীতিনির্ধারকের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে এসব তথ্য।
সূত্র বলছে, আর্থিক খাতে এবার বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ আছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার ব্যাপারে ‘সবুজ সংকেত’ এসেছে। ব্যয় সংকোচনের জন্য বাজেটেও কম গুরুত্বের প্রকল্প কাটছাঁট করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহারেও এসব বিষয় উল্লেখ আছে। নির্বাচনের পর বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে প্রথম বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এসব বিষয় পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তবে প্রাথমিকভাবে সরকারের উদ্যোগ থাকলেও বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহলের কারণে শেষ পর্যন্ত কতটুকু বাস্তবায়ন সম্ভব হবে তা নিয়ে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করছেন।
বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার তথ্য অনুসারে গত দেড় বছরে দেশে মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) তথ্য অনুসারে, গত ৫ বছরে বিভিন্ন পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।
এর মধ্যে কোনো পণ্যের দাম ৯ শতাংশ থেকে শুরু করে ৪শ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। অর্থাৎ জিনিসপত্রের দাম ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। করোনার পরপরই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতির লাগাম ধরে রাখা যায়নি। এছাড়া দেশ থেকে অর্থ পাচার বৃদ্ধি, বিভিন্ন খাতে দুর্নীতি, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সংকট অন্যতম। এই অবস্থায় আবারও সরকার গঠন করতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। এ কারণে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, সরকার গঠনের পর সর্বপ্রথম অগ্রাধিকার পাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ।
আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহারে ১১টি অগ্রাধিকার বিষয়ের মধ্যেই এটিকেই সবার আগে রাখা হয়েছে। দ্রব্যমূল্য কমিয়ে সব শ্রেণির মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। তবে জিনিসপত্রের দাম কমানো রুটিনওয়ার্ক। এটি সরকার সব সময় করে। এর বাইরে ইশতেহারে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান তৈরি। আমরা অবকাঠামো খাতে অনেক উন্নয়ন করেছি। তৈরি হয়েছে বড় বড় অবকাঠামো।
কিন্তু এগুলো ব্যবহার করে দেশে শিল্পায়ন করতে হবে। বিশেষ করে রপ্তানিমুখী শিল্পে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে এবং অপরদিকে কর্মসংস্থান বাড়বে। এক্ষেত্রে আমরা তরুণ ও যুব উদ্যোক্তা তৈরি করতে চাই। আমাদের যুব সমাজ যাতে অন্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেই একজন উদ্যোক্তা হয়ে যায়, সরকার সেভাবেই চিন্তা করছে। তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়ানোসহ সব ধরনের সহায়তা করবে সরকার। রপ্তানিতেও বিশেষ সুবিধা আছে। এছাড়া নির্বাচনি ইশতেহারে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ৫ বছরে পর্যায়ক্রমে এগুলো বাস্তবায়ন করবে সরকার।
