সেতু হয়ে চলবে ট্রেন

আরেকটি স্বপ্ন সত্যি হচ্ছে। পদ্মা সেতু হয়ে চলবে ট্রেন। আজ মঙ্গলবার পদ্মা সেতু রেল রুটে ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠান শেষে নেতারা একটি বিশেষ ট্রেনে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া রেলস্টেশন থেকে ফরিদপুরের বঙ্গ রেলস্টেশনে যাবেন। এটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে রেলপথে রাজধানী ঢাকার সাথে সংযুক্ত করেছে। ট্রেনে ঢাকা থেকে খুলনার দূরত্ব ২১২ কিলোমিটার। এটি স্বল্পমেয়াদে মানুষ এবং পণ্য পরিবহনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত করে।

চীনের ঋণে প্রায় ৩৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত ১৬৯ কিলোমিটার ব্রডগেজ সিঙ্গেল লাইন নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে। এই রেলপথের রাজধানীর গেণ্ডারিয়া থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত ৭৭ কিলোমিটার চালু হচ্ছে আজ। প্রকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী বছর জুনে যশোর পর্যন্ত ট্রেন চলবে।

গত বছরের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।৬.১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ দ্বিতল সেতুর ওপরতলায় চলছে গাড়ি; নিচতলা দিয়ে চলবে ট্রেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে পদ্মা সেতুতে রেললাইন স্থাপন শুরু হয়। পদ্মা সেতুর মতো পদ্মা রেল সংযোগও সরকারের অগ্রাধিকারের প্রকল্প। টাকার অঙ্কে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং মেট্রোরেলের পর এটি তৃতীয় বৃহত্তম প্রকল্প। পদ্মা রেল সংযোগের উদ্বোধন উপলক্ষে সাজ সাজ রব পড়েছে পদ্মার দুই তীরে।

ট্রেনে করে পদ্মা নদী পার হওয়ার স্বপ্ন কীভাবে পূরণ হলো?

২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুতে রেল চলাচল সুবিধা যুক্ত করার নির্দেশ দেন। এর মাধ্যমে শুরু হয় পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের স্বপ্ন। অর্থায়ন জটিলতায় তা আটকে থাকে কয়েক বছর। চীনের ঋণ প্রতিশ্রুতিতে ২০১৬ সালে সরকারের অনুমোদন পায় প্রকল্পটি। ট্রেন চালানোর লক্ষ্য নিয়ে ২০১৮ সালের ৩ জুলাই পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। ওই বছরের এপ্রিলে চুক্তি সই হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে গ্রুপ ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের (সিআরইসি) সঙ্গে। প্রকল্পে পরামর্শক হিসেবে কাজ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কনস্ট্রাকশন সুপারভিশন কনসালট্যান্ট (সিএসসি)।
ঢাকা-ভাঙ্গা রেলপথের ২৩ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার নির্মাণ হয়েছে ভায়াডাক্টের ওপর। এটিই দেশের প্রথম উড়াল রেলপথ। পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর এবং শরীয়তপুর জেলা রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত হচ্ছে। আগামীতে যুক্ত হবে নড়াইল। সেতু হয়ে চলবে ট্রেন

এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে ১৬৯ কিলোমিটার ছাড়াও আরও ৩ কিলোমিটার পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে। ৪৩ দশমিক ২২ কিলোমিটার সাইড এবং লুপলাইন নির্মাণ করা হচ্ছে। সর্বমোট নতুন রেললাইন নির্মাণ করা হচ্ছে ২১৫ দশমিক ২২ কিলোমিটার।
৬৬টি বড় সেতু নির্মাণ করা হয়েছে এই রেলপথে। ২৪৪টি ছোট সেতু এবং কালভার্ট নির্মাণ করা হচ্ছে। মাওয়ায় একটি সড়ক ওভারপাসসহ ২৯টি লেভেল ক্রসিং নির্মাণ করা হয়েছে। এ রেললাইন পুরো পথে কোথাও গাড়ি চলাচলে বাধা হবে না। ১৪টি নতুন স্টেশন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। পুরোনো ৬টি স্টেশনের খোলনলচে বদলে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ঢাকা-পদ্মা সেতু-ভাঙ্গা অংশে স্টেশন সংখ্যা ৯টি। ২০টি স্টেশনই চলবে কম্পিউটারভিত্তিক ইন্টারলক্ড সিগন্যাল পদ্ধতিতে। এক হাজার ৭৯৬ একর জমি অধিগ্রহণ করতে হয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নে।

শেভরন বাংলাদেশ ও সুইস কন্ট্যাক্টের চুক্তি সই

0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments