যে পদ্ধতিতে ডলার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা হচ্ছে, তা সময়োপযোগী নয়: ড. জাহিদ হোসেন
দেড় বছর ধরে ডলার সংকটে রয়েছে দেশটি। আমদানির তীব্রতাসহ বিভিন্ন কারণে আমদানিকৃত লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খোলার হারও কমতে থাকে। বর্তমানে, ব্যবসায়ীরা 100% মার্জিন দিয়ে এলসি খুলতে পারে না। ডলার সংকটের কারণে অনেক কোম্পানি পরিকল্পনা অনুযায়ী বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করতে পারছে না এবং তাদের কারখানা টিকিয়ে রাখার জন্য জাপান থেকে উচ্চ মূল্যে কাঁচামাল সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে ব্যবসায়িক খরচ দিন দিন বাড়ছে।
গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে মূলত এ সংকট দেখা দেয়। তখন বাংলাদেশ ব্যাংক আমদানিতে কড়াকড়ি আরোপ করে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিলাস পণ্য আমদানি নিরুত্সাহিত করতে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করে। তারপরও ডলারের সংকট মেটানো যাচ্ছে না। ডলার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা
এ বিষয়ে ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ডলার সংকটের সমস্যা সমাধান হচ্ছে না। কারণ যে পদ্ধতিতে এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে, তা সময়োপযোগী নয়। যখন অনেক বেশি রিজার্ভ থাকে এবং তা দিয়ে মাসের পর মাস জোগান নিশ্চিত করা যায়, তখন ডলারের দাম বেঁধে দিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কিন্তু বাংলাদেশের রিজার্ভ পরিস্থিতি সেই পর্যায়ে নেই।
তিনি বলেন, ডলারের চলমান সংকট মোকাবিলা করতে হলে এই মুদ্রার দাম পুরোপুরি বাজারের ওপর ছেড়ে দিতে হবে। ‘২০০৩ সাল থেকে বাংলাদেশ বাজারভিত্তিক ডলারের দাম কার্যকর শুরু করে। এরপর বিশ্বে নানা অর্থনৈতিক সংকট হলেও দেশে ডলারের বাজারের বড় ধরনের কোনো অস্থিরতা দেখা যায়নি। তাই ডলারের দাম বাজারের ওপর ছেড়ে দিয়ে দেখা যেতে পারে তা সমস্যার সমাধানে কাজ করে কি না।
