তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে রাজধানীর রান্নাঘরের চুলা দিনের বেলা জ্বলে না । গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু এখন গ্যাস খুব একটা উপযোগী নয়। শুধু কুকার নয়, গ্যাস পাম্পেও গ্যাসের সংকট পরিলক্ষিত হয়। গ্যাস স্টেশনে বিশাল সারি তৈরি হয়েছে। ঘন্টা পেরিয়ে যায়। রাস্তা জুড়ে গাড়ির এই লাইন শহরজুড়ে অসহনীয় যানজটের সৃষ্টি করে। রাজধানীর অনেক এলাকায় এখন পাইপলাইনের গ্যাস ছাড়াও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডার ব্যবহার করেন গ্রাহকরা। সংসারের খরচ বাড়ছে। একদিকে, আপনাকে গ্যাসের বিল দিতে হবে, অন্যদিকে, বোতলের খরচ। নিম্ন আয়ের মানুষ এ অবস্থার শিকার হচ্ছেন।
গ্যাস-সংকটের কথা জানিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে গত কয়েকদিন ধরে যুগান্তর কার্যালয়ে অনেকে ফোন করে অভিযোগ জানিয়েছেন। তারা বলছেন, কয়েক দিন আগেও সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত গ্যাস পাওয়া যেত। এখন পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। ভোর ৫টার পরই গ্যাসের চাপ কমে যায়। যে চাপ থাকে, তাতে চুলা নিবু নিবু করে জ্বলে, রান্না করা যায় না। বুধবার নগরীর সচিবালয় সংলগ্ন জাতীয় প্রেস ক্লাবেও দিনভর গ্যাস ছিল না। এ কারণে রান্না করতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে জাতীয় প্রেস ক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্যান্টিনে।
তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের জরুরি অভিযোগ কেন্দ্রে জমেছে অভিযোগের পাহাড়। তারা বলছে, এক মাস ধরেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কম বলে তারাও অভিযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু তাদের হাতে করার কিছু নেই। চাহিদা অনুযায়ী তারা পর্যাপ্ত গ্যাস পাচ্ছে না। তাই রেশনিং করে গ্যাস দিতে হচ্ছে। সিএনজি পাম্পে চাহিদা অনুযায়ী অর্ধেক গ্যাসও দেওয়া যাচ্ছে না। আগে যেখানে ৩ থেকে ৫ মিনিটে একটি গাড়িতে গ্যাস ভরা সম্ভব ছিল, চাপ না থাকায় এখন সেখানে লাগছে ১৫ থেকে ২০ মিনিট। দিনের বেলা জ্বলে না
জানা গেছে, রাজধানীর মোহাম্মদপুর, পান্থপথ, কাঁঠালবাগান, কলাবাগান, জাতীয় প্রেস ক্লাব, মিরপুর, পুরান ঢাকা, যাত্রাবাড়ী, মুগদা, মান্ডা, বাড্ডা থেকে গ্যাস-সংকটের বিষয়ে অভিযোগ আসছে বেশি। বুধবার গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি থেকেও অনেকেই গ্যাস-সংকটের বিষয়ে অভিযোগ করেন। জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য এক মাস ধরে রাজধানীতে একেক দিন একেক এলাকায় দিনের বেলায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকছে।
