গাজার স্থল হামলায় ভয়ংকর বিপদ ইসরাইলের। কারণ, গাজায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই গাজা প্রতিরক্ষায় জোর প্রস্তুতি নিয়েছে হামাস। শত্রুরাষ্ট্র ইসরাইল ধ্বংসে রকেট, অ্যান্টি ট্যাঙ্ক, ড্রোন, টানেল, স্নাইপার সবকিছু নিয়েই পুরোদমে প্রস্তুতি নিয়ে আছে। ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বাহিনী হামাস ইসরাইলে ৭ অক্টোবর আচমকা অভিযানের পর ভয়ংকর পালটা হামলা শুরু করেছে ইসরাইলও। হামাসের সামরিক ক্ষমতা ধ্বংসের মিশনে গাজায় স্থল হামলার ঘোষণা দিয়েছে। শুক্রবার নতুন এক বিবৃতিতে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ত জানিয়েছেন, গাজার সীমান্ত থেকে খুব বেশি দূরে নয় সেনাবাহিনী। শিগগিরই ঢুকে পড়বে গাজায়।
বিশ্লেষকরা বলছেন: “যদি ইসরায়েল গাজা উপত্যকায় স্থল হামলা চালায়, তাহলে তা বড় বিপদে পড়বে।” স্ট্রিপ এমন একটি সমস্যা হয়ে উঠতে পারে যা বছরের পর বছর বা এক শতাব্দী পর্যন্ত স্থায়ী হয়।”
স্থল অভিযানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হতে পারে গাজার জনসংখ্যার ঘনত্ব। মাত্র ৩৬৩ বর্গকিলোমিটারের এলাকায় ২০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস করে। আক্রমণের ফলে ব্যাপক প্রাণহানি হতে পারে। ফলে অযোদ্ধাদের সংখ্যাও বেশি হতে পারে, যা তাদের জন্য বিপজ্জনক। গাজার সরু রাস্তাও হতে পারে ইসরাইলের মৃত্যুফাঁদ। কারণ, গাজা উপত্যকার রাস্তা সরু হওয়ায় ইসরাইলি বাহিনীর জন্য অস্ত্রবাহী ট্যাঙ্কগুলো পরিচালনা করা অনেক কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ হবে। সহজেই স্নাইপার আক্রমণের শিকার হতে পারে।
রকেট: হামাসের যথেষ্ট পরিমাণ রকেট রয়েছে। ২০২১ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাসের কাছে ৮ হাজারেরও বেশি রকেট রয়েছে। গত দুই বছরে এটি তার মজুত না বাড়ালেও আইডিএফ বাহিনীকে আক্রমণ করার জন্য তাদের কাছে হাজার হাজার রকেট রয়েছে।
ড্রোন: হামাসের ড্রোন আইডিএফ বাহিনীর জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হামাস তার চলমান হামলায় ড্রোন ব্যবহার করার ভিডিও প্রকাশ করেছে। তাদের দেখানো ড্রোনগুলো ইউক্রেনে রুশ হামলায় ব্যবহৃত ইরানি ড্রোনগুলোর অনুরূপ। সাম্প্রতিক যুদ্ধে বেশি মাত্রায় ড্রোন অন্তর্ভুক্ত করেছে।
৫০০ কিলোমিটারের সুড়ঙ্গ: ইসরাইলের সব থেকে বড় ভয় গাজার ৫০০ কিলোমিটারের সুড়ঙ্গ (টানেল) ফাঁদ। ভূপৃষ্ঠের নিচে কয়েকশ টানেল রয়েছে, যা হামাসের আশ্রয়স্থল ও অস্ত্রাগার হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আইডিএফ ও স্থল বাহিনীর ওপর আশ্চর্যজনক আক্রমণ চালানোর জন্য এই টানেলগুলো যথেষ্ট। অনেকেই ধারণা করছেন, সুড়ঙ্গের ভয়েই স্থল হামলা চালানোর সাহস পাচ্ছে না ইসরাইল। স্থল হামলায় ভয়ংকর বিপদ
আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা: হেলিকপ্টার সহায়তা নেওয়াও কঠিন হবে ইসরাইলের জন্য। কারণ, হামাসের কাছে সহজে বহনযোগ্য নিজস্ব আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মুবার-১ রয়েছে। যা ইতোমধ্যে ইসরাইলের ৪টি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করেছে। এছাড়াও এসএ-৭, এসএ-১৮ এবং এসএ-২৪ এর মতো বিভিন্ন ধরনের ম্যান-পোর্ট এয়ার ডিফেন্স রয়েছে। এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো ইসরাইলি স্থল বাহিনীর ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলবে।
