নির্দিষ্ট কিছু আসনে জয়ের নিশ্চয়তা নিয়ে ভোটে যেতে চায় জাতীয় পার্টি। নৌকার প্রার্থী থাকলে জয় নিয়ে সন্দিহান নেতারা। ফলে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টির এখন দরকষাকষি চলছে।
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া আসনে নৌকার কোনো প্রার্থী থাকবে না, এমন নিশ্চয়তাও চেয়েছে দলটি। জাতীয় পার্টির তৃণমূল নেতারা মনে করছেন, নৌকার প্রার্থীদের সঙ্গে ভোট করে জিতে আসা তাদের পক্ষে সম্ভব হবে না। প্রশাসনও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে না। ফলে নৌকার সঙ্গে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান না।
বগুড়া-২ আসনে জাতীয় পার্টি সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘আমার আসনে জাতীয় পার্টি আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। আবার আওয়ামী লীগও প্রার্থী দিয়েছে। ফলে এখানে নিরপেক্ষ ভোট হওয়া নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে। এই অবস্থা শুধু আমার আসনে না, সবগুলো আসনেই। এখন পর্যন্ত প্রশাসনকে আমরা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে দেখছি না। তবে সমঝোতার ভিত্তিতে যদি নৌকার প্রার্থী না থাকেন তাহলে পাস করা কঠিন হবে না। আমি মনে করি, সমঝোতা হলে নির্দিষ্ট আসনগুলোতে নৌকার প্রার্থী থাকবে না।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিষ্কার করে বলেছেন, সবাইকে ভোট করে জিতে আসতে হবে। কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থীকে বসিয়ে দেওয়া হবে না। ফলে অধিকাংশ আসনে একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছে। ভোটে যেতে চায় জাতীয়
জাতীয় পার্টির তৃণমূলের একাধিক নেতা এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী না থাকলেও যদি আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকে, তাহলেও অধিকাংশ আসনে জাতীয় পার্টির পক্ষে নির্বাচন করা কঠিন হয়ে যাবে। শুধু জাতীয় পার্টি না, আওয়ামী লীগের সঙ্গে ১৪ দলীয় জোটে থাকা শরিকদের পক্ষেও জেতা কঠিন হবে। আবার অনেক আসনে নৌকার প্রার্থী আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে হেরে যাবেন। সবাই জানে নির্বাচনের পর কে ক্ষমতায় আসছে। ফলে আওয়ামী লীগের লোকেরা সব জায়গাতেই পেশি শক্তি দেখাবে। ফলে শুধু জাতীয় পার্টি না, সমঝোতা না হলে ১৪ দলীয় জোটের অন্য প্রার্থীদেরও পাস করা কঠিন হবে।
