জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৬ আসনে নৌকার প্রার্থী টানা তিনবারের সংসদ সদস্য নাজমুল হাসান পাপনের গত পাঁচ বছরে নগদ ও ব্যাংকের টাকা বেড়েছে। তাঁর নগদ টাকা বেড়েছে প্রায় ১৫ গুণ এবং ব্যাংকের টাকা বেড়েছে পাঁচ গুণ। এ ছাড়া পাপনের বার্ষিক আয় প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হলফনামা ও এবারের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি এমপি পাপন ২০১৮ সালের নির্বাচনে দেওয়া হলফনামায় উল্লেখ করেন তাঁর চাকরি থেকে বার্ষিক আয় ৪ কোটি ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৩৯ টাকা। এবারের হলফনামায় চাকরি থেকে বার্ষিক আয় উল্লেখ করেছেন ৭ কোটি ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৯ টাকা। পাঁচ বছর আগে বাড়ি ভাড়া থেকে তাঁর বার্ষিক আয় হতো ৭ লাখ ২৫ হাজার ২৩৫ টাকা। এবার সেই আয় দেখানো হয়েছে ২১ লাখ ৩০ হাজার ২৭৫ টাকা।
আগের হলফনামায় ব্যাংকে ৫ কোটি ৫৪ লাখ ১৬ হাজার ৯৯৪ টাকা থাকার কথা উল্লেখ করেন পাপন। এবার উল্লেখ করেছেন ২৬ কোটি ৮৭ লাখ ৬৪ হাজার ২৯৯ টাকা। গতবার বন্ড ছিল ৩৪ লাখ ৬১ হাজার ৯৩৫ টাকা। এবার আছে ২ কোটি ৫৯ লাখ ৩৬ হাজার ২৩৯ টাকার। আগেরবার নগদ ৮ লাখ ৫০ হাজার ৪৪১ টাকা থাকার কথা উল্লেখ করেছিলেন পাপন। এবার দেখিয়েছেন ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৮৪৬ টাকা।
গতবার ৬০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রের কথা উল্লেখ করেছিলেন; এবার দেখিয়েছেন ১ কোটি টাকার। গতবার ৭০ লাখ টাকা দামের একটি গাড়ি থাকার কথা উল্লেখ করেছিলেন। এবার দুটি গাড়ি দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৯১ লাখ ৯৯ হাজার ৪৬৫ টাকা মূল্যের। তিনবারের সংসদ সদস্য নাজমুল
একাদশ জাতীয় নির্বাচনের হলফনামায় পাপনের জীবনবীমার কথা উল্লেখ ছিল না। তবে এবার দেখানো হয়েছে ৯৬ লাখ ৩ হাজার ২৩ টাকার জীবনবীমা। গতবার ৮৭ লাখ ২৬ হাজার ৫০০ টাকা দামের একটি অ্যাপার্টমেন্ট ছিল। এবার দেখানো হয়েছে পাঁচটি। এর মধ্যে চারটি পৈতৃক, অন্যটি গতবারের। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অকৃষি জমির পরিমাণ না বললেও মূল্য দেখিয়েছিলেন ২ কোটি ৯৮ লাখ ১০ হাজার ৪৩৫ টাকা। এবার ৩২৮ দশমিক ৭৮ শতাংশের মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ কোটি ৩২ লাখ ৮ হাজার ৩৪৫ টাকা। গতবার উপহার হিসেবে পাওয়া ২৫০ ভরি স্বর্ণ উল্লেখ ছিল; এবারও তাই আছে।
