জাতীয় পার্টি (জাপা) শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবে কিনা সে প্রশ্ন উঠছে জোরেশোরেই। তবে দলের মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, ‘নির্বাচন করতে এসেছি। নির্বাচন থেকে চলে যাওয়ার জন্য, নাটক করার জন্য আসি নাই। নির্বাচন করব এবং আগামীতে ক্ষমতায় যাব সেই স্বপ্নেও আমরা বিভোর।
বুধবার রাজধানীর বনানীতে জাপা চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেছেন।
এদিকে জাপা সূত্র সমকালকে জানায়, আগের রাতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে গুলশানের একটি বাড়িতে বৈঠকে নির্বাচনে থাকার প্রশ্নে অবিশ্বাস দূর করা হয়েছে। ক্ষমতাসীনদের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে– পরিস্থিতি যাই হোক, নির্বাচনে থাকবে জাপা। বিনিময়ে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে নির্বাচনী সমঝোতা এবং আসন বণ্টনের নিশ্চয়তা পেয়েছে।
জাপার পক্ষে দলের মহাসচিব ছাড়াও বৈঠকে ছিলেন দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। পরে তারা জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের এবং অন্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের ব্রিফ করেছেন। দলের মহাসচিব মুজিবুল হক
তপশিলের পর থেকেই আড়ালে রয়েছেন জি এম কাদের। জাপা সূত্র জানায়, সম্প্রতি তিনি একটি বন্ধুপ্রতিম দেশের কূটনীতিকের সঙ্গে দেখা করেছেন। নির্বাচন নিয়ে তাঁর অবস্থান কী– এই প্রশ্ন ওঠে মঙ্গলবার রাতের বৈঠকে। জাপার কয়েকজন নেতার ফোনালাপের কথাও ওঠে। সেখানে জাপা নেতাদের বলতে শোনা গেছে, সরকার জাতীয় পার্টিকে বিরোধী দল বানাতে চায় না। বিরোধী দল হওয়ার নিশ্চয়তা না পেলে নির্বাচনে থাকবেন না তারা।
সূত্র জানিয়েছে, আগামী সংসদে ফের বিরোধী দল হতে সম্মানজনক সংখ্যক আসনে আওয়ামী লীগের কাছে জয়ের নিশ্চয়তা চাওয়া হয়। এ জন্য নৌকা এবং আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভোট থেকে সরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন জাপা নেতারা।
