মন্ত্রিসভা থেকে দুই ডজনের বেশি সদস্যের বাদ পড়া নিয়ে দেশজুড়ে চলছে নানা জল্পনা । জানা গেছে, দুর্নীতি-অনিয়মে জড়িয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ওঠায় মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছেন কয়েকজন।
অদক্ষতা ও অযোগ্যতার পাশাপাশি দাপ্তরিক কাজে অবহেলা, মন্ত্রণালয়ে অনুপস্থিতি, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনমনের অভিযোগও ছিল কারও কারও বিরুদ্ধে। সেই সঙ্গে স্বজনপ্রীতি ও নেতাকর্মীর সঙ্গে দূরত্ব তৈরির কারণেও দু-একজনের কপাল পুড়েছে।
বিভিন্ন সময় বেফাঁস মন্তব্য ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে পড়ায়ও নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়নি কয়েকজনের।
তবে সব রকমের যোগ্যতা সত্ত্বেও বয়স ও শারীরিক অসুস্থতা এবং আঞ্চলিক ও জেলা কোটার কারণে ছিটকে পড়তে হয়েছে এমন উদাহরণও মিলেছে। এ ছাড়া নতুনদের জায়গা করে দিতে একাধিক মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে নতুন মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
সব মিলিয়ে নানা কারণে সদ্য বিদায়ী মন্ত্রিসভায় থাকা ৩০ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীকে বাদ দিয়েই নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে নতুন-পুরোনো সহকর্মী নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন সরকারের যাত্রা। দেশজুড়ে চলছে নানা জল্পনা
মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন বুধবার রাতে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিং করে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নাম প্রকাশ করেন। এতে বিদায়ী মন্ত্রিসভার ১৮ জন এবং নতুন হিসেবে এসেছেন ১৯ জন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন পুরোনো মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছেন এমন পাঁচজনকেও নতুন মন্ত্রিসভায় রাখা হয়েছে।
কিন্তু সব ছাপিয়ে বিদায়ী মন্ত্রিসভার কারা কেন এবার বাদ পড়েছেন, তা নিয়েই চলছে জোর আলোচনা। বাদের তালিকায় রয়েছেন ১৫ মন্ত্রী, ১৩ প্রতিমন্ত্রী ও দু’জন উপমন্ত্রী। সমকালের অনুসন্ধানে এসব মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর বাদ পড়ার নানা কারণ উঠে এসেছে।
আগেই বাদ ছয়জন
সদ্য বিদায়ী মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে তিনজন এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি। তারা হলেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন। নিজ মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি-অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও আত্মীয়স্বজনকে প্রশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে এলাকায় জনপ্রিয়তা হারানোর কারণে মনোনয়ন পাননি তারা।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলেও বিদায়ী মন্ত্রিসভার আরও তিনজন প্রতিমন্ত্রী নির্বাচনে জয় পাননি। তারা হচ্ছেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী। তাদের বিরুদ্ধেও দলীয় অন্তর্দ্বন্দ্ব ও কোন্দলে জড়িয়ে নেতাকর্মীর আস্থা হারানোর অভিযোগ রয়েছে। ফলে এই ছয় প্রতিমন্ত্রীর ছিটকে পড়াটাই ছিল প্রত্যাশিত।
