অর্থনৈতিক সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে যাত্রা শুরু করল নতুন মন্ত্রিসভা। এবার মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়েছে অভিজ্ঞ, দক্ষ, কর্মঠ ও তারুণ্যের সমন্বয়ে। পঞ্চমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন শেখ হাসিনা। আর টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করল আওয়ামী লীগ।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শপথবাক্য পাঠ করান। এবার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার সদস্য ৩৭ জন। এটা বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ছোট মন্ত্রিসভা। এর মধ্যে মন্ত্রী ২৫ জন এবং ১১ জন প্রতিমন্ত্রী। তবে মন্ত্রিসভায় আরও দু’একজন নতুন করে যুক্ত হতে পারেন বলে আলোচনা আছে। এদিন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় ছয়জনকে নিয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে একজন নতুন। অন্যরা আগেও উপদেষ্টা ছিলেন।
নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন করা হয়। এতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ডা. দীপু মনির দপ্তর বদলের বিষয়টি। তাঁকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে নতুন সরকারে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হয়েছে। এটিকে এক ধরনের ‘পদাবনতি’ হিসেবেই দেখছেন দলের নেতাকর্মী। তবে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগ দিতে যাওয়া ড. হাছান মাহমুদের দপ্তর বদলকে এক ধরনের ‘পদোন্নতি’ বলেই মনে করছেন অনেকে। এ দু’জন বাদে মন্ত্রী বাকি সবারই আগের মন্ত্রণালয়ে রাখা হয়েছে। মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল মন্ত্রী হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে আগের মন্ত্রণালয়েরই দায়িত্ব পেয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী অনেকেই প্রথমবার এসে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পেয়েছেন। মোহাম্মদ আলী আরাফাত তথ্য এবং আহসানুল ইসলাম টিটু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। এই দুই মন্ত্রণালয়ে এখনও কোনো পূর্ণ মন্ত্রী দেওয়া হয়নি। পুরোনো চার প্রতিমন্ত্রীকে তাদের আগের মন্ত্রণালয়েই রাখা হয়েছে। তবে জুনাইদ আহমেদ পলক তাঁর আগের আইসিটির সঙ্গে এবার ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও বাড়তি পেয়েছেন। এ ছাড়া শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব এখনও কাউকে দেওয়া হয়নি। স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে
এবারের মন্ত্রিসভায় বড় চমক এনেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। আগের মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছেন ১৫ প্রভাবশালী মন্ত্রী। নতুন তালিকায় স্থান পেয়েছেন উদ্যমী ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ১৪ নতুন মুখ।
পাশাপাশি এবারের মন্ত্রিসভায় ১৪ দলীয় শরিকের কারও ঠাঁই হয়নি। শুধু আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেই মন্ত্রিসভার সদস্য করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মন্ত্রিসভা গঠনে এবার শেখ হাসিনা বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে মেধাবী, উদ্যমী, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং পরিশ্রমী নবীন-প্রবীণের মিশেলে স্মার্ট একটি মন্ত্রিসভা করা হয়েছে।
