সড়ক পরিবহণ খাতে একটি সুবিধাবাদী গোষ্ঠী রয়েছে। এই গোষ্ঠীই সড়ক পরিবহণ খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় প্রধান বাধা। এরা নানা অজুহাতে সড়ক পরিবহণ আইন বাস্তবায়ন করতে দিচ্ছে না। কারণ এই খাতে চাঁদাবাজি এবং দুর্নীতির বিরাট সুযোগ রয়েছে। যেখানে যত বেশি অব্যবস্থাপনা ও নৈরাজ্য থাকে, সেখানে তত বেশি দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির সুযোগ থাকে। এই কারণে সুবিধাবাদী গোষ্ঠী নিজেদের হীনস্বার্থে এই খাতে অব্যবস্থাপনা টিকিয়ে রাখে।’ শনিবার ধানমণ্ডিতে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন কর্তৃক আয়োজিত দেশের গণপরিবহণ ও সড়ক নিরাপত্তা পর্যালোচনা শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা এসব কথা বলেন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এ.আই. মাহবুন উদ্দিন আহমেদ লিখিত বক্তব্যে বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই ধরনের উদ্যোগ নিতে হবে: প্রাতিষ্ঠানিক ও অ-প্রাতিষ্ঠানিক। সরকার প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের মাধ্যমে দক্ষ চালক তৈরি, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন, পরিবহন শ্রমিকদের নিয়মিত করা, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন বন্ধ এবং অপর্যাপ্ত সড়ক ও সড়ক মেরামতের মাধ্যমে সড়ক পরিবহন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সুশাসন নিশ্চিত করবে।
অপ্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ সমন্বিত পদ্ধতিতে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরি করবে। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জীবনমুখী সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলোÑ প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক কোনো উদ্যোগই যথেষ্ট মাত্রায় বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ফলে সড়ক ব্যবহারকারী সাধারণ জনগণ যেমন সচেতন হচ্ছে না, তেমনি সড়ক পরিবহণ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে না। সড়ক পরিবহণ খাতে
তিনি আরও বলেন, রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে অনেকগুলো ফ্লাইওভার, ওভারপাস, ইউলুপ, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হয়েছে। তারপরও রাজধানীর যানজট কমছে না, বরং বাড়ছে। কারণ এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যথেষ্ট মাত্রায় স্টাডি করা হয়নি। রাজধানীর যানজট কমানো এবং যাতায়াতের সুবিধার জন্য সরকার মেট্রোরেল নির্মাণ করে আংশিক চালু করেছে। ২টি সাবওয়ে নির্মাণ শুরু হচ্ছে।
